ভালোবাসার সম্পর্ক সাধারণত দুজনের যত্ন, বোঝাপড়া আর ছোট ছোট প্রচেষ্টায় গভীর হয়। কিন্তু সব সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয় না। কখনো অজান্তেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়, কখনো একজন মানুষ মনে মনে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন কিন্তু মুখে কিছু বলেন না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একটু সচেতন হলে সঙ্গী কিছু বলার আগেই তার আচরণে ধরা পড়ে যায় সম্পর্ক নিয়ে তার বদলে যাওয়া মনোভাব।মার্কিন সম্পর্কবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যারিজডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমনই কিছু লক্ষণের কথা বলেছেন, যেগুলো দেখে বুঝে নেয়া যায় সঙ্গী হয়তো আর এই সম্পর্কে থাকতে চাইছেন না।১. মনের কথা লুকিয়ে রাখাযে মানুষটি একসময় তার দিন-রাতের সব কথা আপনাকে বলতেন, তিনি যদি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যান, অনেক কিছু আড়াল করতে শুরু করেন তাহলে সেটি সম্পর্কের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। আলোচনা করেও যদি দূরত্ব কমানো না যায়, তবে ধরে নিতে হবে তিনি মানসিকভাবে সরে যাচ্ছেন।২. আপনাকে আর গুরুত্ব না দেয়াআগে আপনার মতামত, অনুভূতি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন সে শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত? আপনার কথা আর আগ্রহ পাচ্ছে না? এই পরিবর্তন অনেক সময় সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগাম বার্তা বহন করে।৩. সব সময় মোবাইলেই ডুবে থাকাএকসঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তেও যদি সঙ্গীর চোখ থাকে মোবাইলের পর্দায়, তাহলে তা ভাবনার কারণ হতে পারে। অবশ্য একবার-দুবার দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন না। কিন্তু যদি একই আচরণ বারবার দেখেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার প্রতি তার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।৪. অকারণ ঝগড়া বেড়ে যাওয়াযে মানুষটি একসময় ঝগড়া এড়িয়ে চলতেন, হঠাৎ করেই আপনার প্রায় সব কথায় বিরক্ত হচ্ছেন? ছোট বিষয়েও ভুল ধরছেন, ধৈর্য হারাচ্ছেন? আপনি শান্ত থাকতে চাইলেও যদি প্রতিদিন ঝগড়া লেগেই থাকে, তাহলে সেটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত হতে পারে।৫. সব কিছুর দায় আপনার ঘাড়ে চাপানোব্রেকআপের আগে অনেকেই নিজের দায় এড়িয়ে চলেন। তখন সঙ্গী প্রায় সব সমস্যার জন্য আপনাকেই দোষ দিতে শুরু করে। এমনকি যখন আপনার কোনও দোষই নেই। হঠাৎ করে দোষারোপের মাত্রা বেড়ে গেলে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।৬. হঠাৎ ‘ভীষণ ব্যস্ত’ হয়ে পড়াব্যস্ততা আজকাল সবারই থাকে। কিন্তু যদি দেখেন, সঙ্গী ইচ্ছে করেই আপনার জন্য সময় কমিয়ে দিচ্ছেন, দেখা করা বা কথা বলার আগ্রহ হারাচ্ছেন তাহলে বুঝতে হবে, তার জীবনে আপনি আর আগের মতো অগ্রাধিকার পাচ্ছেন না।এই লক্ষণগুলোর মানেই যে সম্পর্ক শেষ তা নয়। কিন্তু এগুলো অবহেলা করাও ঠিক নয়। সময় থাকতে খোলামেলা কথা বলাই পারে অনেক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে। আর যদি সত্যিই সঙ্গী সরে যেতে চান, তাহলে সত্যটা জেনে নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।আরএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
