মাদারীপুরে এক স্কুল শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চৌহদ্দি এলাকার অতুল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে এবং পরিবারসহ মাদারীপুর শহরের মাস্টারকলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে স্কুলে প্রবেশের সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুই বখাটে কিশোর পেছন দিক থেকে অনাদি বিশ্বাসের ওপর হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে শিক্ষক চিৎকার শুরু করলে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক অখিল সরকার জানান, শিক্ষকের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে এবং সেখানে ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন এবং তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।হামলার প্রতিবাদে দুপুর ২টার দিকে খাগদী-চরমুগরিয়া সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হামলায় জড়িত দুই বখাটেকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল হামিদ, সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুন, আরিফুজ্জামান লিটন, মিজানুর রহমান ও দাতা সদস্য সফিউর রহমান।হামলার শিকার শিক্ষক অনাদি বিশ্বাস বলেন,স্কুলে প্রবেশের সময় চাপা রাস্তায় দুজন ছেলে পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। কিছু বোঝার আগেই আমি মাটিতে পড়ে যাই। হামলাকারীদের বয়স আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ বছর হবে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল, চেহারা শনাক্ত করতে পারিনি। আমি ২০১৯ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে কর্মরত, কারও সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তবুও কেন আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো, জানি না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আব্দুল হামিদ জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন,আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষক হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি। তবে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
