শরীয়তপুরে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের চৌরাঙ্গী এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং খুলনায় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক মোতালেব শিকদারের ওপর গুলির ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে এনসিপির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের চৌরাঙ্গী মোড় অতিক্রমকালে ছাত্রদলের এক কর্মীর মোটরসাইকেল মিছিলে ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরেই সংঘর্ষ বেঁধে যায়।সংঘর্ষের একপর্যায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হলে অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল তালুকদার অভিযোগ করেন, “ছাত্রদলের এক কর্মীকে রাস্তায় আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে এনসিপির নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”এদিকে এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ তালুকদার বলেন, “ছাত্রদলের এক কর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের মিছিলে ঢুকে পড়ে এবং আমাদের এক কর্মীর ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে ধরে রাখলে ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল তালুকদার ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”সংঘর্ষে আহত শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসহাক সরদার (৩৪) বলেন, “আমাদের এক কর্মী মোহাম্মদ সাগরকে এনসিপির নেতাকর্মীরা মারধর করেছে এমন তথ্য পেয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমরা ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু তারা উল্টো অন্ধকারে আমাদের ওপর হামলা চালায়, ককটেল নিক্ষেপ করে এবং তাদের হাতে দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।”এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আশিক (২৪), নাঈম (২৫), আরমান দর্জি (২৬), ইসহাক সরদার (৩৪), আবিদ খান (২৮) ও মামুন মাঝি (৩০)।শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার লিমিয়া সাদিনা বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি আছেন। একজনের অবস্থা গুরুতর থাকায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।”শরীয়তপুর পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “হাদি হত্যার প্রতিবাদে এনসিপির একটি মিছিল চৌরাঙ্গী মোড়ে পৌঁছালে মোটরসাইকেল সাইড দেওয়ার নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
