যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির গোবিলা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ পুরোনো কমিটির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।এর আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অর্থ লোপাটের ঘটনায় বর্তমান কমিটিকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আলী জানান, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি আতর আলীকে সভাপতি ও তাঁকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে কমিটির সভাপতি ছিলেন জিন্নাত আলী, সাধারণ সম্পাদক হাশেম আলী এবং কোষাধ্যক্ষ মোমিনুর রহমান।নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের সময় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকার কোনো হিসাব পাননি বলে দাবি করেন ইউনুছ আলী। তাঁর অভিযোগ, ওই টাকা তাঁরা লোপাট করেছেন। লোপাটের টাকার মধ্যে রয়েছে— মসজিদ ফান্ডের ২২ হাজার টাকা, সরকারিভাবে বরাদ্দের ৬০ হাজার টাকা, ঈদগাহের ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা, মাছ বিক্রির ৩২ হাজার টাকা এবং জমি রেজিস্ট্রি বাবদ ১০ হাজার টাকা।এই টাকার হিসাব চাইলেও সাবেক কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোমিন তালবাহানা করতে থাকেন। ফলে টাকা লোপাটের ঘটনায় চলতি বছরের ৩ আগস্ট সাবেক কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করা হয়। চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন গত ১৩ আগস্ট ও ২০ আগস্ট দুই দফায় সালিশ বৈঠকে বসেও বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হন।ইউনুছ আলী আরও জানান, পরে এই ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ টাকা না পেলে সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে, সাবেক সভাপতি জিন্নাত আলী বলেন, “মসজিদ-মাদরাসার টাকা আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে রেষারেষি না করাই শ্রেয়। কোষাধ্যক্ষ মোমিনের কাছে হিসাবের খাতা আছে, তিনি সঠিকভাবে হিসাব দিতে পারবেন।”সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান বলেন, “সালিশের সময় চেয়ারম্যানের কাছে ৫৬ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। মসজিদের উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ওই টাকা। আর্থিক লেনদেনের হিসাবের খাতা আমার কাছেই আছে। বর্তমান কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন হলে হিসাব বুঝিয়ে দেব। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা।”তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান কমিটি গঠনের বিষয়টি তাঁরা জানেন না।চুড়ামনকাটির সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ জানান, “সম্প্রতি গোবিলা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের টাকা-পয়সার হিসাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।”চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, “মসজিদের টাকা লোপাটের অভিযোগ মীমাংসার জন্য দুই দফা সালিশ করা হয়েছিল। সাবেক কমিটির কোষাধ্যক্ষ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মতবিরোধ থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান কমিটিকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”এনআাই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
