জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ‘ব্যথার দান’ এর ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন করে চার বছর ধরে একটি ক্রয় কমিটিই এ দায়িত্ব পালন করছে। অভিযোগ উঠেছে, এই কমিটি কোনো ধরনের তদারকি বা আর্থিক জবাবদিহিতা ছাড়াই প্রতি বছর কিনছে লক্ষাধিক টাকার ওষুধ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৭ আগস্ট মেডিকেল সেন্টারের জন্য তিন সদস্যের একটি ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সদস্য হিসেবে আছেন ডা. শরিফ আহমদ আকন্দ ও ইব্রাহিম খলিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর এই কমিটি পুনর্গঠন করার কথা থাকলেও গত চার বছর তা করা হয়নি।ক্রয় কমিটি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার ওষুধ কেনে, যা বছরে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এই বিপুল পরিমাণ কেনাকাটা চললেও সংশ্লিষ্টদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। এমনকি, অনেক সময় কম পরিমাণে ওষুধ কিনে বেশি বিল করা বা ওষুধ না কিনেও বিল করার মতো অভিযোগও রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয়বিধি অনুযায়ী, যেকোনো পণ্য কেনার পর একটি পরিদর্শন কমিটিকে পণ্যের মান ও পরিমাণ যাচাই করে ‘ওকে রিপোর্ট’ দিতে হয়। এরপরই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিল পায়। কিন্তু মেডিকেল সেন্টারের ক্রয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিদর্শন কমিটিকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তেই কেনাকাটা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রশাসন আসার পর গত ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরে একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে আরও চারজন সদস্য রয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল সেন্টারের দপ্তরপ্রধান ও ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অগ্রিম অর্থ প্রদান করে যেসব ওষুধ ক্রয় করা হয়, সেগুলোর জন্য পরিদর্শন কমিটির অনুমোদন লাগে না। অন্য সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।ক্রয় কমিটি পরিবর্তন না হওয়ার বিষয়ে তিনি দায় প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে বলেন, কমিটি পরিবর্তনের দায়িত্ব প্রশাসনের। তারা যদি এটি পরিবর্তন না করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। নতুন পরিদর্শন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, “ক্রয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটি ২৫ হাজার টাকার বেশি মূল্যের কোনো ওষুধ কিনলে পরিদর্শন কমিটিকে জানাতে হয়। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ক্রয় কমিটি ২৫ হাজার টাকার বেশি কেনাকাটা করেনি।”এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে তার অফিসে পাওয়া যায়নি, ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
