আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজামকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন বিগত দুঃসময়ে নির্যাতিত দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর না রাখা একজনকে আবারও মনোনয়ন দেওয়ায় হতবাক আনোয়ারা কর্ণফুলীর তৃনমুল নেতাকর্মীরা।সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্ভব্য মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজামকে নিয়ে বিগত সময়ে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আর সেটার সর্বোচ্চ বহি:প্রকাশ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।বিএনপির ত্যাগী তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে লিখছেন, সরওয়ার জামাল নিজাম ১/১১ এর পর থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন না৷ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নেতাকর্মীদের ও সংসদীয় আসনের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার ফলে বিপুল ভোটে হারেন তিনি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ধানের শীষের প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে তিনি সরে পড়েন। এরপর থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম এবং নির্বাচনকালীন মিথ্যা-গায়েবি মামলায় নেতাকর্মীরা জেল-জুলুম-নির্যাতন-নিপীড়নে পড়লেও তিনি কোন ধরনের খবরাখবর রাখেননি। আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে দলের আন্দোলন সংগ্রামেও তাকে দেখা যায়নি।মূলত তার বিপক্ষে সরব হয়েছেন দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকারের আমলে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, তাদের জেল-জুলুমের সময়ে তারা পাশে পেয়েছেন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও বর্তমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিনকে। তার নেতৃত্বেই নেতাকর্মীরা হয়েছেন ঐক্যবদ্ধ।আওয়ামী লীগের পতনের আগেও দলীয় ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি নেতাকর্মী নিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১দফা দাবি বাস্তবায়নে জনমত সৃষ্টিতে এলাকায় চষে বেড়িয়েছেন লায়ন হেলাল। এ সময়ে তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আনোয়ারায় বিশাল কর্মী সমাবেশ, নারী সমাবেশ ও যুব সমাবেশ সহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।কিন্তু ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এলাকায় সরব হয়েছেন সরওয়ার জামাল নিজাম। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে যিনি মাঠে ছিলেন তাকে দল মনোনয়ন দিবেন। কিন্তু মনোনয়ন তালিকায় হলো উল্টো।ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব গাজী ফোরকান বলেন, দল থেকে বলা হয়েছে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকা তৃণমূলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া। এমন কথা থাকলেও আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে মনোনয়ন দিয়েছেন দলের দুঃসময়ে মাঠে না থাকা ব্যক্তিকে। যা তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ আসনে দুঃসময়ে নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত হয়নি। দ্রুত সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিল করে দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকা তৃণমূলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার আহবান করছি আমরা।বিক্ষুব্ধ আনোয়ারা উপজেলা যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলের নেতাকর্মী নিয়ে মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন না দিয়ে সুসময়ের পাখিকে মনোনয়ন দেওয়ায় হতবাক জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীরা। সুসময়ের নেতার সঙ্গে নয় ত্যাগী নেতার সঙ্গে থাকব আজীবন।’দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ও হাইকমান্ডকে কারও মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে মনোনয়ন কিনে নিয়েছেন সরওয়ার জামাল নিজাম। না হলে আন্দোলন সংগ্রামে না থেকে দলের এবং নেতা কর্মীদের পাশে না থেকে কোন মাপকাঠিতে সরওয়ার জামাল নিজাম মনোনয়ন পেয়েছেন। ত্যাগী তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা করেন দল পর্যালোচনা করে দলের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা ও কর্মী বান্ধব নেতাকে মনোনয়ন দিবেন।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
