নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালসহ বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালেই মিলছে না এম্বুলেন্স সেবা। কোথাও নষ্ট কোথাও নেই চালক। রেফার্ড করা রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সেই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স গুলো জরুরী সেবা কার্যক্রমে চললেও রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ।এদিকে জেলা সদর হাসপাতালের একটি পুরোপুরি নষ্ট আর একটি জোড়াতালি দিয়ে চলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। তাই অন্য উপজেলা থেকে আনা একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সেবা চালাচ্ছেন বলে জানালেন তত্বাবধায়কের। অন্যদিকে, দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে ডেপুটি সিভিল সার্জন।১০ উপজেলা নিয়ে নেত্রকোনা জেলা। পাহাড় কিংবা হাওর সব এলাকার রোগীর ভিড় থাকে এই জেলা সদর হাসপাতালে। কিন্তু প্রায় সময় রোগীর অবস্থা জটিল হলেই পাঠাতে হয় ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায়। আর তখনই বাধে বিপত্তি। এদিকে হাতপাতালের পেছনে চাকাবিহীন অবস্থায় মান্ধাতা আমলের একটি পড়ে থাকা এম্বুলেন্স জানান দেয় বেহাল অবস্থার। অন্যদিকে আরও একটি চিকিৎসার জন্য গ্যারেজে। এমন অবস্থায় রেফার্ড রোগীদের একমাত্র ভরসা বেসরকারী এম্বুলেন্স।ভুক্তভোগী রোগী এবং রোগীর স্বজনা জানান, ময়মনসিংহ পর্যন্ত সরকারী ভাড়া ৯০০ টাকা হলেও বেসরকারী সেবা নিয়ে ভুক্তভোগীদের গুণতে হয় দ্বিগুন তিনগুন টাকা। তখনি চলে দরকষাকষি আর মনমালিন্য। এদিকে রোগী বাঁচানোর তাগিদে জোগাড় করতে হয় টাকা। শুধু জেলা সদর হাসপাতালই নয়। ১০ উপজেলার মোট তিনটিতে রয়েছে চালক। অন্যগুলোতে চালকের অভাবে সরকারী সেবা মিলে না রোগীদের। এদিকে বেসরকারী চালকদের দাবী- খরচের তুলনায় কমই নেন তারা। সরকার ভর্তুকি দিলেও তাদের তো পেট চালাতে হয় তাই যত কম পারে সেবা দিচ্ছ। কেউ কেউ আবার ভাড়া দেয় না বলেও বেসরকারী চালকদেরও রযেছে অভিযোগ।জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য আলপনা বেগম জানান, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম জেলা স্বাস্থ্য সেবা যেহেতু একটি মৌলিক সেবা স্বাস্থ্য সেবাটি অসাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়া সরকারের উচিত। জেলা সদর হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল যেখানে ১০ টি উপজেলা থেকে সব সময় রোগি আনা নেওয়া করা হয়। তাই উচিত মানদাত আমলের অ্যাম্বুলেন্স গুলো বাদ দিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এম্বুলেন্স যুক্ত করা।জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাম্মদ একরামুল হাসান, জেলা সদর হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো আর একটি গ্যারেজে। টাটার পুরোনো দুটো নিয়েই সমস্যায়। কিছু রোগী যেহেতু রেফার করতেই হয় তাই সিভিল সার্জনের সহায়তায় মোহনগঞ্জ থেকে একটি এম্বুলেন্স এনে চালাচ্ছেন কাজ। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার আফরিন সুলতানা জানান, উপর লেভেলে চিঠি পাঠানো হয়েছে সমস্যা সমাধানের। দ্রুতই সমাধানের আশা করছেন। ২৮১০ বর্গ কিলোমিটাররের নেত্রকোনা জেলায় মোট জনসংখ্যা ২২ লাখ ২৯ হাজার ৪৬৪ জন। তারমধ্যে জেলা সদরে ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৯৬৪ জন ২০২২ সনের তথ্য অনুয়ায়ী।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
