কমলা বাগান করে সাফল্য পেয়েছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামের আলেপ উদ্দিন। প্রতিটি গাছের থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ ও হলুদ রঙের অসংখ্য কমলা। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া কমলার এমন দৃশ্যে চোখ জুড়িয়ে যাবে যে কারও।কমলা বিক্রি করে ভালো আয় হওয়ায় হাসি ফুটেছে তার মুখে। আলেপের বাগানে ধরা চাইনিজ জাতের কমলা খেতে বেশ সুস্বাদু ও মিষ্টি। কমলা বাগানটি স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।আলেপ উদ্দিনের কমলা বাগানের প্রবেশমুখে দাঁড়ালে চোখে পড়ে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সবুজ ও হলুদ বর্ণের কমলা। প্রতি থোকায় অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি কমলা ঝুলে আছে।বাগানে রয়েছে প্রায় ১০ ফুট উঁচু ৯০টি কমলা গাছ। একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব প্রায় ৫ ফুট। ৩০ শতাংশ জমিতে সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছগুলোর প্রতিটি শাখায় ঝুলে আছে অসংখ্য কমলা। কিছু কমলা পেকে যাওয়ায় হলুদ রং ধারণ করেছে। কিছু কমলা কাঁচা থাকায় সবুজ রয়ে গেছে। প্রতিদিন বাগানের পরিচর্যা করেন আলেপ উদ্দিন নিজেই। তিনি বলেন, বাবার রেখে যাওয়া জমিতে তিনি সুপারি গাছ এবং দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম, কাঁঠাল, জলপাই, লেবু, সজনে, আমড়া, বড়ই, জাম, লিচু গাছ লাগিয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রতিবছর বাঁধাকপি, ফুলকপি, আলু, বেগুন চাষ করেন। ২০২১ সালে আলেপ উদ্দিন তার বাড়ির সামনেই উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ‘লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় ৩০ শতাংশ জমিতে ৯০টি চাইনিজ জাতের কমলার চারা রোপণ করেন। ২০২৩ সালে ২০ হাজার ও ২০২৪ সালে ২ লাখ ৮ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। চলতি বছরেও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।এরই মধ্যে সবুজ রঙের কমলা প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এক মাসের মধ্যে কমলা হলুদ রং ধারণ করলে ফল ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকে কমলা নিয়ে যাবেন। তিনি আরও জানান, ছোট আকারের কমলার চাহিদা বেশি। চলতি বছরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রায় ২০০টি একই জাতের কমলার চারা লাগিয়েছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে ৩০টি কমলার বাগান, ৩৫ হেক্টর জমিতে ১৬০টি মাল্টার বাগান এবং ৭ হেক্টর জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে। যেগুলোতে উপজেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
