আগামী জাতীয় নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বিএনপির ভবিষ্যৎ এবং ১৬ কোটি মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই নির্বাচন ঘিরে যে সংকট তৈরি হবে, যদি আমরা তা একসাথে মোকাবিলা করতে না পারি, তাহলে দেশ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে এবং বিএনপিও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।পটুয়াখালীর গলাচিপায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চরবিশ্বাস ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বুধবাড়িয়া বাজার মাঠে এ জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে জোটের রাজনীতিতে সবসময় নতুন খেলা তৈরি হয়। একসময় জামায়াতে ইসলাম ও ২০টিরও বেশি দল বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের পর রাজনীতির প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। এখন নতুন কিছু দল বিএনপির কাছে আসছে, আবার কেউ কেউ দূরে সরে যাচ্ছে। যদি খোদা না করুক, আওয়ামী লীগ আবার নির্বাচনে আসে এমনও হতে পারে, জামায়াতে ইসলাম আবার বিএনপির সাথেই জোটবদ্ধ হতে বাধ্য হবে।’জোট রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা বিএনপির জোটে থেকে বড় বড় কথা বলেন, তারা ভবিষ্যতে সেই জোটে স্থান নাও পেতে পারেন। এনসিপি’র সঙ্গে বিএনপির জোট হলে অভ্যন্তরে কিছু দল ভিন্নমত নিতে পারে। কিন্তু জোট, নোট এবং ভোট যাই হোক, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেটাই সবচেয়ে জরুরি।’গলাচিপা–দশমিনা আসনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে হাসান মামুন বলেন, ‘গত ৪৬ বছরে এই আসনে আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারিনি। আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ আলহাজ্ব শাজাহান খান ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৭ দিনের জন্য এমপি ছিলেন, তারপরই সংসদ ভেঙে যায়। আপনারা আমাদের প্রতি আস্থা রাখলে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। চরকাজল, চরবিশ্বাস ও চরশিবা ইউনিয়নের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা এই অঞ্চলকে পৃথক প্রশাসনিক থানা এবং পরবর্তীতে উপজেলায় উন্নীত করতে কাজ করবো।’সভায় সভাপতিত্ব করেন চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. বাকের বিশ্বাস এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদারসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জনসভায় অংশ নেয় হাজারো বিএনপি নেতা–কর্মী ও সাধারণ জনগণ।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
