আপনারা আপনাদের সন্তানকে যখন দুধ-ডিম খাওয়ান, আমরা আমাদের সন্তানদের পানিভাত খাইয়ে ঘুমাতে বলি। কখনো মুড়ি খায়, কখনো না খেয়ে থাকে’ এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের শহরের হরিজন পল্লীর বাসিন্দা অরুনা।মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে শহরের ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার সঙ্গে শহরের হরিজন সম্প্রদায়ের আলোচনা ও নির্বাচনি পথসভা অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অরুনা এ কথাগুলো বলেন।হরিজন পল্লীর বাসিন্দা অরুনা তাদের সম্প্রদায়ের মানুষের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে তার হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা যারা রাজনীতি করেন, ভোটের সময় হলে আমাদের কাছে এসে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। অমুক দল ক্ষমতায় গেলে আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, আমরা ঘর পাবো, খাদ্য পাবো, চাকরি পাবো। কিন্তু আসলে কিছুই পাই না। আমাদের সন্তান স্কুলে গেলে কেউ মেলামেশা করে না। কারণ অনেকেই মনে করে- আমরা মেথর, আমাদের সন্তান বড় হলেও মেথরই হবে।’তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্বামীর তিন হাজার টাকা বেতনের চাকরিটা চলে গেলে, একটা চাকরির জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু কেউ একটা কাজ দেয়নি।’তার বক্তব্যে পথসভায় উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এ সময় উপস্থিত সকলকে কাঁদতে দেখা যায়।বক্তব্য শেষে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. সানসিলা সভামঞ্চ থেকে নেমে এসে অরুনাকে বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দেন। নির্বাচনি পথসভা মুহূর্তে থমকে যায় অরুনার এমন কষ্টভরা জীবনের গল্প শুনে।পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হজরত আলী ঘোষণা করেন, ‘আজ কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য হবে না।’ হরিজন পল্লির বাসিন্দাদের এমন কষ্টের কথা শুনে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম ও বাসিন্দাদের কাপড় এবং শিশুখাদ্য বিতরণের ঘোষণা দেন।পরে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা তার বক্তব্যে বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে, শেরপুর হরিজন পল্লীকে আধুনিক পল্লী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যেখানে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।’পথসভায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ জনাব মামুনুর রশিদ পলাশ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এবং সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব জনাব হযরত আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
