শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এক শিক্ষকের কাছ থেকে ঘুষ দাবি, সরকারি খাল উদ্ধারের খরচ আত্মসাৎ এবং জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী লিয়াকত হোসেন সরকারি জাজিরা মোহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান)। তিনি জয়নগর ইউনিয়নের উত্তর কেবলনগর কাজী কান্দি চটান জামে মসজিদ এলাকার হাজী ছয়ফুল বেপারীর ছেলে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাতো ভাই রাজ্জাক বেপারী গং দখল করে রেখেছেন। নানা চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শিক্ষক লিয়াকত হোসেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে তার জমি উদ্ধারে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।লিয়াকত হোসেনের অভিযোগ, তদন্তের পর এসিল্যান্ড মেহেদী হাসান তার জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি নগদ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে ভূমি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি নিজ খরচে ওই এলাকার দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার করেন। খাল উদ্ধারে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন ভাড়া করে ব্যাপক খরচ হলেও এসিল্যান্ড প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই খরচ ফেরত দেননি এবং জমিটিও বুঝিয়ে দেননি।ভুক্তভোগী শিক্ষক লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমার চাচাত ভাই আমার বাবার ওয়ারিশে পাওয়া সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে ভেবেছিলাম এবার হয়তো ন্যায্য পাওনা পাবো। কিন্তু এসিল্যান্ড মেহেদী হাসান এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং আমার খরচে খাল উদ্ধার করান। এখন তিনি জমিও দেননি, খরচও ফেরত দেননি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি জেনেছি, ভূমি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান আমার প্রতিপক্ষের সঙ্গে আর্থিক যোগসাজশ করে আমার ক্ষতি করেছেন।’ঘুষ লেনদেনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নাসির মোল্লা। তিনি জানান, ‘লিয়াকত মাস্টারের জমি উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাসে এসিল্যান্ড টাকা নিয়েছেন। আমার হাত দিয়ে একবার ১০ হাজার টাকা দিয়েছি, পরে আরও দুই দফায় মোট ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশ এলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেব।’অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
