দুপুরে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন আবুল কাশেম (৬০)। হঠাৎ একটি গুলি ঘরের চালের টিন ছিদ্র করে তার বুকের ডানপাশে আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। এর আগের দিন বাড়ির উঠানে খেলা করার সময় গুলিতে জখম হয় শিশু ফাতেমা খাতুন (১০)। তারা বিশেষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নে চান্দুটিয়া গ্রামে ঘটনা দুটি ঘটে। দুই দিনে গুলিতে দুই জন জখম হওয়ায় চান্দুটিয়া গ্রামবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ফায়ার রেঞ্জে প্যাকটিসের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে চান্দুটিয়া গ্রামে শিশুসহ দুইজন জখমের ঘটনা শুনেছেন।স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে চান্দুটিয়া গ্রামের রুবেল হোসেনের মেয়ে ফাতেমা বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। হঠাৎ করে তার কোমড়ে গুলি লাগে। এ ঘটনায় তার পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই শিশুকে উদ্ধার করে। গুলিটি কোথায় আঘাত হয়েছে তারা প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে নিশ্চিত হন ফায়ার রেঞ্জ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে ফাতেমা জখম হয়েছে। এর পরের দিন রোববার ফায়ার রেঞ্জের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে একই গ্রামের আবুল কাশেমের বুকে আঘাত করে। ভাগ্যক্রমে তারা দুইজনই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।চান্দুটিয়া গ্রামের পারভেজ হোসেন জানান, দুই দিনে দুইজন গুলিতে জখম হওয়ার ঘটনায় চান্দুটিয়ায় গুলি আতঙ্ক বিরাজ করছে। সকল বয়সের মানুষ ভয়ের মধ্যে চলাফেরা করছে। অনেক কৃষক মাঠে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। ফায়ার রেঞ্জকে আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থায় উন্নত করার দাবি করেছেন পারভেজ।চান্দুটিয়া গ্রামের সনজিৎ বিশ্বাস জানান, কয়েক বছর আগে ফায়ার রেঞ্জে প্রশিক্ষণের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি চান্দুটিয়া গ্রামে চলে আসতো। মাঝে তা বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবারও গুলি মানুষের শরীরে আঘাত করছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছেন।চান্দুটিয়া গ্রামের আরও কয়েকজন জানান, ফায়ার রেঞ্জ থেকে চান্দুটিয়া গ্রামের দুরত্ব তিন কিলোমিটারের বেশি। গ্রামে সব সময় মানুষের চলাচল। ফলে ফায়ার রেঞ্জ থেকে জনসম্মুখে গুলি ঢুকে পড়ার ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নতুবা লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে প্রাণহানীর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।গুলিতে জখম হওয়া দুই জনের পরিবারের লোকজন জানান, গুলি লাগার পরও ভাগ্যক্রমে তারা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। নিজের বাড়িতেও মানুষ নিরাপদ নেই। গুলির আঘাত থেকে রক্ষা পেতে সকলকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।ফায়ার রেঞ্জ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া গুলিতে দুই দিনে দুই জন জখম হওয়ার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়েছে। কমেন্টে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন।এই বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) আহসান হাবীব জানান, ফায়ার রেঞ্জে প্যাকটিসের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া গুলিতে পাশের চান্দুটিয়া গ্রামের শিশুসহ দুই জন জখম হওয়ার ঘটনা শুনেছি। শনিবার ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সেখানে প্যাকটিস করছিল। পুলিশ ছাড়াও ফায়ার রেঞ্জে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা প্যাকটিস করেন। এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
