আজ ৩ কার্তিক। বাংলা পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী শরৎকাল। দরজায় কড়া নাড়ছে হেমন্তের নবান্ন। শান্ত ও নীরব প্রকৃতি। নদী-নালা ও খালে-বিলের পানিও কমতে শুরু করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিনের বেলা তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এদিকে শীত আসতে দেরি নেই। ফলে প্রকৃতিতে শীতের আভাস কুয়াশা এসে হাজির।এরই মধ্যে গেল এক সপ্তাহ ধরে সূর্যোদয়ের সময় সবুজ ঘাস ও আমনের পাতার ওপর জমছে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা। সেই কণাগুলোর নিবিড় শব্দ মনে করিয়ে দিচ্ছে, শীত ঘনিয়ে আসছে। শরতের বিদায় হতে না হতেই হেমন্তকে পাশ কাটিয়ে যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে শীত। সন্ধ্যা হতেই শীত অনুভব হচ্ছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী উপজেলায়। সীমান্তবর্তী এই উপজেলা ভারতের হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় আগাম শীতের আমেজ দেখা দিয়েছে।ফুলবাড়ী উপজেলা ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে গেল এক সপ্তাহ ধরে সন্ধার পর পর বৃষ্টির পানির মতো আকাশ থেকে শিশির পড়ছে। সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত দেখা মিলছে ঘন কুয়াশারও।এ অঞ্চলে গেল দুই সপ্তাহ আগে টানা বৃষ্টির পর থেকেই বইছে হিমেল হাওয়া, সঙ্গে শুরু হয়েছে কুয়াশা। ফসলের মাঠে উঁকি দিচ্ছে নতুন বীজের প্রস্ফূটিত চারা। তাতে শিশির বিন্দু ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃদু শীতলতা।অন্য দিকে শীতের সকালে আগাম রোপণকৃত সবজি ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে প্রান্তিক চাষিরা। প্রতিদিন কুয়াশাছন্ন সকালে কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লাল শাক ও মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজির চাষবাদ করতে শুরু করেছেন তারা। রবিবার সকালে বিভিন্ন এলাকায় সকাল সাড়ে ৮ থেকে ৯ টা পর্যন্ত কুয়াশা দেখা গেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গাছ ডগা ও ধান ক্ষেতে শিশির জমে থাকার দৃশ্য দেখাও গেছে।রাতে সব বয়সের মানুষদের শরীরে হালকা কাঁথা ও কম্বল জড়াতে হচ্ছে। এই অঞ্চলে আগাম শীতের দেখা দেওয়ায় পুরো শীতকাল আসা মাত্রই শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক কবির হোসেন ও ছাইদুল ইসলাম জানান, ‘গেল দুই তিন সপ্তাহ আগেই আমরা শীতকালীন সবজি, বেগুন, বাঁধা কপি, ফুলকপি ও লাউসহ বিভিন্ন ফসল ফলানো হয়ে৷ গেল এক সপ্তাহ থেকে শীত দেখা যাচ্ছে আমাদের অঞ্চলে। রাতে হালকা কাঁথা গায়ে দিতে হয়। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর দেখি চারিদিকে ঘনকুয়াশার সাথে ঠান্ডাও লাগে। তবে মাঠে কিছুক্ষণ কাজ করলে শীত থাকলেও ঠান্ডা দুর হয়ে যায়।’কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ থেকে দিনের তাপমাত্রা ২২/২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠানামা করছে। এছাড়াও এই সপ্তাহে গেল তিন চার দিন ধরে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। তবে কুয়াশা কমার লক্ষণ নেই। দিন দিন কুয়াশা বাড়বে বলে জানান এ কর্মকর্তা।’এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
