কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। হাসপাতালে অবস্থানরত চিকিৎসকেরাও জরুরি সময়ে কথা বলতে পারছেন না, ফলে যোগাযোগ ও চিকিৎসা সেবায় সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে বসে কোনো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কেউ জরুরি কল করতে চাইলে বাইরে বা রাস্তায় গিয়ে ফোন ধরছেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতেও সময় নষ্ট হচ্ছে, বিশেষ করে গর্ভবতী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীর স্বজনরা পড়ছেন বিপাকে।সেবা নিতে আসা বড়ইয়াকান্দি গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে সিজারের জন্য ভর্তি করিয়েছি। ডাক্তার বলেছে এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। আমি রক্তদাতাকে ফোন দিতে পারছি না। হাসপাতালে বসে ফোন ধরার নেটওয়ার্কই নেই। বাইরে গিয়ে ফোন দিতে হয়, কিন্তু স্ত্রীকে একা রেখে বের হওয়াটাও তো ঝুঁকিপূর্ণ। আমার মনে হয় উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিলে একটা সমাধান পাওয়া যাবে।’উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে অনেক রোগী বাসায় ফিরে ফোনে পরামর্শ নিতে চান, কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাঁদের কল পান না। এমনকি আমরা নিজেরাও কখনও কখনও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়ি। বিশেষ করে পুরোনো ভবনের বেশ কিছু জায়গায় একেবারেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বিষয়টি অনেক দিনের হলেও বর্তমানে সমস্যাটি আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।’এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা সত্যিই দুঃখজনক।’ তিনি প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন?’ প্রতিবেদক জানান, তিনি ইতিমধ্যে কথা বলেছেন। এ সময় ইউএনও বলেন, ‘তাহলে বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাই দেখবেন। আমি বলে দিচ্ছি, যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
