কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি সদস্যরা সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত একটি আলিশান রাজ প্রাসাদে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা, নগদ টাকা ও বিভিন্ন প্রকার দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।উক্ত অভিযান চলাকালীন সময়ে উক্ত রাজ প্রাসাদের মালিক শীর্ষ মাদক সম্রাট জুবাইর কৌশলে পালিয়ে গেলেও ঐ আলিশান প্রাসাদের ‘রানী’ কারবারির সহধর্মিণীসহ দুই জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।এরপর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হট বক্সের ভিতরে লুকিয়ে রাখা ১৯ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা, বেশ কয়েকটি দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র, উন্নত মানের ওয়াকিটকি ও মাদক বহনে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।ধৃতরা হচ্ছে, সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত রাজ প্রাসাদের মালিক চিহ্নিত কারবারি জুবাইরের স্ত্রী ফাইজা আক্তার (১৯) ও তার অন্যতম সহযোগী টেকনাফ সদর মৌলভী পাড়া বাসিন্দা আবুল কালামের পুত্র আইয়ুব আলী (৩৭)।অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে দীর্ঘ দিন ধরে শীর্ষ মাদক কারবারি জুবাইর তার বিলাসবহুল এই রাজ প্রাসাদের ভিতরে মাদক মওজুদ ও মাদক বেচাকেনা করে আসছে। পাশাপাশি সে নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উন্নত মানের ওয়াকিটকিসহ নানান রকম ডিভাইস ব্যবহার করে থাকে।সেই তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তার বাড়ির চারদিক ঘেরাও করার পর উক্ত বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি হট বক্সের ভিতরে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান, মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও মাদক বহনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।এসময় মাদক বেচাকেনায় প্রমাণিত হওয়ায় জুবাইরের স্ত্রী ফাইজা আক্তার ও আইয়ুব নামে তার এক সহযোগীকে আটক করতেও সক্ষম হয়।তিনি আরও বলেন, কৌশলে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ মাদক কারবারি জুবাইরসহ তার সিন্ডিকেটে থাকা কারবারিদের ধরতে বিজিবির চলমান এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।আটক ও পলাতক মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করার জন্য ধৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।এদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে আরো জানা যায়, অভিযান চলাকালীন সময়ে ঐ রাজ প্রাসাদের মালিক শীর্ষ কারবারি জুবাইর ও তার সহযোগী জাবেদ ও ইব্রাহিম নামে আপন দুই ভাগীনা বাড়িতে ছিল। তারা তিন জন বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বেশ কয়েকটি বাইক, প্রাইভেট কার, ট্রাক রয়েছে। তারা এই সমস্ত যানবাহনের মাধ্যমে মাদক পাচার করে থাকে বলেও জানান তারা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবরাং ইউনিয়নের সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, শীর্ষ মাদক কারবারি জুবাইর, জাবেদ, ইব্রাহিমকে আইনের আওতায় নিয়ে আসলে উক্ত এলাকায় মাদক পাচারের ভয়াবহতা অনেকটাই কমে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
