পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপির) কর্তৃক প্রদত্ত ০৮ দফার বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামী ১৯ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক স্থগিত করার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সচেতন ছাত্র জনতার ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ; মোঃ আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ; মোঃ হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ নূর হোসেন, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদ।লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ৫২% বাঙালি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে জানানো হচ্ছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৬ নামে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে সেখানে পার্বত্য বাঙালিদের কোন প্রতিনিধি নেই। কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার আইন থাকায় এ কমিশন থেকে একপেশে যেকোন ধরনের সিদ্ধান্ত আসার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরণের একপেশে সিদ্ধান্তের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বৃহৎ বাঙালি জনগোষ্ঠী ভূমিহীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩ জন সার্কেল চীফ (রাজা), ৩ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ১ জন আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানসহ মোট ৭ জনই উপজাতি। ১ জন কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান এবং অন্য ১ জন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। এ থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ভূমি কমিশনে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ৫২% বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধি নেই। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত বাঙালিরা এই আইন ও কমিশনের মাধ্যমে তাদের ভূমির অধিকার হারাবে বলে উৎকণ্ঠিত। ভূমি কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না রাখায় এটি একপেশে ও সংবিধান পরিপন্থি একটি ধারা এবং একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ফাঁস করার পরিকল্পনা আঁকা হয়েছে।আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি আগামী ১৯ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের শাখা কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ের সভাপতিত্বে কমিশনের সকল সদস্যদের এক সভা আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠী চরমভাবে ক্ষুদ্ধ।পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়কে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা দৃঢ়তার সঙ্গে জানাচ্ছে যে, পিসিসিপি ঘোষিত ৮ দফা দাবি মানার আগ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের যে কোনো বৈঠক রাজপথে থেকে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দেহে থাকা পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের অধিকার বঞ্চিত নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে পিসিসিপি কোন ছাড় দেবে না। তাই পিসিসিপির ৮ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কোনরূপ বৈঠক, বিশেষ করে ১৯ অক্টোবর রোজ রবিবারের বৈঠক রাঙামাটিতে যাতে অনুষ্ঠিত না হয়, সেজন্য বৈঠক স্থগিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সভা স্থল ঘেরাও, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।সচেতন ছাত্র-জনতার পক্ষে, পিসিসিপি ঘোষিত আট দফা দাবি সমূহ হচ্ছে:১। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে জনসংখ্যা অনুপাতে সকল জাতি গোষ্ঠী থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিশ্চিত করতে হবে।২। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরুর পূর্বে, ভূমির বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে।৩। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ভূমির উপর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ভূমি কমিশন সংশোধনী আইন ২০১৬ এর ধারা সমূহ বাতিল করতে হবে।৪। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রবর্তন করতে হবে এবং সমতলের ন্যায় জেলা প্রশাসকদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার দিতে হবে।৫। কমিশন কর্তৃক ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কারণে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।৬। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ২০০১ সালের ভূমি কমিশন আইন অনুযায়ী বলবৎ করতে হবে।৭। পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত রীতি, প্রথা ও পদ্ধতির পরিবর্তে দেশে বিদ্যমান ভূমি আইন অনুসারে ভূমি কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।৮। বাংলাদেশ সরকারের আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক কর্তৃক বন্দোবস্তীকৃত, অথবা কবুলিয়ত প্রাপ্ত মালিকানা থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না।সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ভূমি কমিশনের এই বৈঠক শুধু রাঙ্গামাটি নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের কোথাও অথবা ঢাকা-চট্টগ্রামেও হতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি চেষ্টা করে তবে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে!এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
