বেনাপোলে ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান হোসেন নিখোঁজ হওয়ার ৮ বছর পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ দল বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেন।যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বারোপোতা গ্রামের গুম হওয়া যুবক মো. রেজওয়ান হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানার সাবেক ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রেজওয়ান হোসেন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ডা. শেখ আফিল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের ইতিহাস বিষয়ের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। সে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট বই কেনার উদ্দেশ্যে বেনাপোল বাজারের দূর্গাপুরস্থ রোডের বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে পৌঁছালে, সেদিন বেলা আনুমানিক ১২ টার সময় তৎকালীন বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসানের নেতৃত্বে এসআই নূরে আলমসহ পুলিশের একটি দল রেজওয়ান হোসেনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রেজওয়ানকে তুলে নেওয়ার পর তারা বেনাপোল পোর্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে ওসি অপূর্ব হাসান তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং থানার বাইরে বের করে দেন। পরবর্তীতে তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও গত নয় বছরেও রেজওয়ানের কোনো খোঁজ মেলেনি।এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বিশেষ তদন্ত দল। দলটি বুধবার রেজওয়ানকে গ্রেফতারের স্থান পরিদর্শন করেন এবং পরিবার ও এলাকাবাসী সাক্ষ্য গ্রহণ করে। তারা রেদওয়ানের পরিবারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং সেই সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারাও।টিমের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমরা এখনো প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে আছি। এটি একটি মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ঘটনা হতে পারে।’রেজওয়ানের ভাই রিপন হোসেন জানান, ‘আমরা থানায় গিয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন ওসি অপূর্ব হাসান আমাদের বলেন, তোর ভাই তুরস্কে গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছে, তোরা তাকে আর পাবি না।’ উনি আরও হুমকি দেন, ‘যদি বেশি খোঁজ করিস, তোদের পুরো পরিবারকেই বালির নিচে চাপা দিয়ে রাখব।’ পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পর তারা থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। ফলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তারা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে। ‘আমরা বহু বছর ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আজ তদন্ত টিম আসায় আমরা নতুন করে আশার আলো দেখছি। আমরা গুমের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’তদন্তের সময় বেনাপোল পোর্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির রেজাউল ইসলাম, সহ সভাপতি ডা. মো. ইমরান, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন, বেনাপোল পোর্ট থানার বর্তমান ছাত্র শিবির সভাপতি মাহাদী হাসান ও সেক্রেটারী আশরাফুজ্জামান রনিসহ দলীয় ও স্থানীয় নেতারাসহ বেনাপোলের বিভিন্ন পেশাজীবী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।বেনাপোল পোর্ট থানার জামায়াতের আমির রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘রেদওয়ান ছিল এলাকার একজন মেধাবী ও সংগঠিত তরুণ। তাকে অন্যায়ভাবে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। রেদওয়ানের নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসন কোনো সহায়তা না দিয়ে বরং ভয়ভীতি দেখিয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে আসার পর পুনরায় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের কাজ দ্রুত শেষ করে আসামীদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য ঢাকা থেকে আসা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।’অন্যদিকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি অনেক পুরনো, তবে তদন্তের স্বার্থে সব দিক যাচাই করা হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
