চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বর্তমানে চলছে ভোট গণনার প্রস্তুতি। এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে ব্যালট পেপারে। গণনা হবে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। ভোট গণনা সরাসরি দেখানো হবে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে। এ জন্য রয়েছে ১৪টি এলইডি স্ক্রিন।এদিকে চাকসু নির্বাচনের ভোটের ফলাফল গণনা করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জনিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও আইটি সেলের প্রধান অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘যেসব ব্যালটে ভোটাররা ভোট দেবেন সেগুলো মেশিনে প্রি-স্ক্যান করা হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো পাতা আমরা টেস্ট করেছি, এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে- সবগুলো পাতা যেন মেশিন পড়তে পারে। একটা ব্যাপার নিশ্চিত করতে পারছি, মেশিন পাতাগুলো পড়তে পারবে।’তিনি আরো বলেন, ‘অন্য কোনো পাতা যদি এ মেশিনে ঢুকেও পড়ে, তাহলে তা মেশিন রিজেক্ট করবে। কারণ তা মেশিনে দেওয়া আমাদের সিকিউরিটি কোডের বাহিরে। আমরা আশা করছি, ভোটগ্রহণ যখন শেষ হবে তখন ওএমআরগুলোর ডাটা রিড করতে পারবে। আমরা ওএমআরগুলো মেশিনে স্ক্যান করার পর দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করে দেখব। এতে বুঝতে পারব, আমাদের মেশিন ঠিকমতো কাজ করছে।’ভোটের ফল ঘোষণা করতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি ৮০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয় তাহলে স্ক্যানিং করতে আনুমানিক ৭ ঘণ্টার ওপরে সময় লাগবে। তাহলে সাড়ে ৪টায় ভোট ক্লোজ হলে, বক্সগুলো জায়গায় আসতে সময় লাগবে। ব্যালটগুলো ২০০ করে গুনে রেডি করতে সাড়ে ৬টার আগে সম্ভব হবে না। এর পর থেকে ৭ ঘণ্টা যদি হয়, তাহলে বলতে গেলে প্রায় পরের দিন (বৃহস্পতিবার) সকাল-যদি স্ক্যানিংয়ে কোনো ঘটনা না ঘটে। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে সেটার জন্য আরো সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা করছি, ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে যাতে কোনো সমস্যা না হয়।’চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনে হাতে লাগানো অমোচনীয় কালি উঠে যাওয়াসহ বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।’জানা যায়, চাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৭ জন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাঁচটি অনুষদে, ১৫টি হলের জন্য নির্ধারিত ১৫টি কেন্দ্রে। মোট ৬০টি কক্ষে ৬৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৪১৫ জন এবং হল ও হল সংসদে ৪৯৩ জন।এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
