চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমুদ্রের পানিতে ভেসে আসা একটি মৃত বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন তিন দিন ধরে পড়েছিল গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে। তিন দিন ধরে পড়ে থাকার কারণে অনেকটা পচে যায় ডলফিনটি, যার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায় গুলিয়াখালি পর্যটন এলাকায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে পর্যটকরা। তিন দিন ধরে মৃত ডলফিনটি সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকলেও সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি জানেন বুধবার। বিষয়টি জানার সাথে সাথে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে জানানো হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় মাটিতে পুতে ফেলা হয়।পর্যটন এলাকার স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল বেলা সমুদ্রের পানির সাথে পর্যটন এলাকায় ভেসে এসে সৈকতে থাকা দোকানগুলোর পেছনে পড়ে থাকে ডলফিনটি। পরে সৈকত এলাকায় ব্যবসায়ীরা এক পাশে টেনে নিয়ে যায়। ডলফিনটির ওজন হবে প্রায় ১০০ কেজির মতো।কিন্তু ডলফিনটি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় শরীর থেকে অনেকটা আলাদা হয়ে যায় নাড়ি-ভুঁড়ি, যার কারণে পচে যায়। এর ফলে পুরো পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায়। দুর্গন্ধের কারণে পর্যটকরা দুর্ভোগে পড়ে।নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ডলফিন পচে যাওয়ার এতই দুর্গন্ধ ছিল যে আমি চার বার বমি করেছি।’উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডা. কল্লোল বড়ুয়া বলেন, ‘এটা মিঠা পানির শুশুক বা ডলফিন। এটি কিভাবে মারা তা বলা যাচ্ছে না।’ ডলফিনটি কিভাবে মারা গিয়েছে তা জানার জন্য তার শরীর থেকে স্যাম্পল কালেকশন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে জাহাজ বা কোন কিছুর সাথে আঘাত পেয়ে ডলফিনটি মারা যেতে পারে। বুধবার সন্ধ্যায় ডলফিনটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ্ বলেন, ‘এটি শুশুক বা ডলফিন হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণী। বাংলাদেশে এখন এটি বিপন্ন প্রাণী হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক ভাষায় হুম মাছ নামে পরিচিত হলেও প্রাণীটি আসলে “গাঙ্গেয় শুশুক, মিঠা পানির শুশুক বা ডলফিন”। কোনো নদীতে ডলফিন থাকা মানে নদীর স্বাস্থ্য বা পরিবেশ ভালো থাকা।’সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ডলফিন মারা যাওয়ার বিষয়টি আজকে (বুধবার) তিনি শুনেছেন। দ্রুত তিনি প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
