ভারতীয় আধিপত্য ও আগ্রাসন রুখে দিতে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গণতন্ত্র পার্টি – জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান।তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সীমান্ত এলাকার মানুষ, আমরা ভারতের আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন চোখে দেখেছি। সীমান্তে গুলি করে মানুষ হত্যা, নদীর পানি আটকে রাখা – এসব চলছেই। তারা ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি শুষ্ক মৌসুমে আটকে রাখে, আর বর্ষায় ছেড়ে দিয়ে বন্যা সৃষ্টি করে। একাত্তরের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশের মানুষকে ভাতে ও পানিতে মারছে।’সোমবার রাতে পঞ্চগড় জেলা শহরের একটি মিডিয়া হাউজে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।রাশেদ প্রধান বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী পোস্ট দেয়ার কারণে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল। বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল শিবির আখ্যা দিয়ে। অথচ এখন কোনো প্রতিবাদ করলে বলা হয়, আমরা নাকি মব করছি। হাসিনার ১৬ বছরে নাকি কোনো মব দেখা যায়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে করদরাজ্য বানানোর পরিকল্পনা একাত্তর থেকেই চলছে। ভারত প্রথমে শেখ মুজিবকে ব্যবহার করেছে, পরে প্রশিক্ষণ দিয়ে শেখ হাসিনাকে। এখনো তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। পূজায় অসুরের মুখে দাঁড়ি বসানো, দেবীর আসনে নির্দিষ্ট চরিত্র বসানোর চেষ্টা – এসবের মাধ্যমে তারা ধর্মীয় বিভাজন ঘটাতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা সেই ফাঁদে পড়িনি।’রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, ‘পাহাড়ে ধর্ষণের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রমাণের আগেই উস্কানি দিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। সীমান্তে ভারতীয় সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়, আর ঢাকায় শাহাবাগগোষ্ঠী মিছিল করে সেনা প্রত্যাহারের দাবি তোলে – এসবই একটি পরিকল্পিত নাটক।’বাংলাদেশে ভারতপন্থী রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো অন্য কোনো দেশে ভারতের এত দালাল নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর সেটি না থাকলে নতুন নিবন্ধন পাওয়া দলগুলোর কাঁধে ভর করে আবারও নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।’ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তির ব্যানারে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী। সাংবাদিক আবু নাঈমের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদম সুফী, কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান, শহর জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক এবং জেলা জাগপার সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আলম বিপ্লব।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
