দীর্ঘদিন ধরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তহীন অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তার স্বজনরা। তবে অদৃশ্য কারণে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।ইতোপূর্বে সময়ের কন্ঠস্বরে ডাঃ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে টেস্ট বাণিজ্য, রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানান বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু ৩ সদস্য বিশিষ্ট সেই তদন্ত কমিটিতে থাকা ব্যক্তিরা অভিযোগকারী না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন।তবে ডাঃ ফারুক হোসেন ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না সেটিও উল্লেখ ছিল ওই তদন্ত প্রতিবেদনে। কিন্তু সেই তদন্তের কয়েক মাস না ঘুরতে আবারো তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডাঃ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে তার পছন্দের মোল্লা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করে না নেওয়ায় রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, প্রেসক্রিপশন ছিড়ে ফেলা, ভুল চিকিৎসা দেওয়া, চেম্বারের মধ্যে ধূমপান করা সহ নানান বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে আদিল নামের এক শিশু রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন আদিলের মা ইসমোতারা। ইসমোতারা তার অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন।অভিযোগে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অভিযোগকারী তার ছেলে আদিলকে নিয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর বিভাগে যান। সেখানে তিনি নির্ধারিত ফি দিয়ে টিকিট কেটে ডা. ফারুক হোসেনের চেম্বারে প্রবেশ করেন। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন এবং জানান, নির্দিষ্ট একটি স্থান মোল্লা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু অভিযোগকারী তার পরিচিত রবি ক্লিনিকে পরীক্ষাগুলো করান এবং রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ফেরত আসেন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রিপোর্ট হাতে নিয়ে ডা. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি যেখানে যেতে বলেছি সেখানে না গিয়ে দালালদের পাল্লায় পড়ে রবি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে কেন?’ এরপর চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর আউটডোর টিকিট ছিঁড়ে ফেলেন।তিনি অভিযোগে আরও বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। একজন সরকারি চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন আচরণ। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যই আমি এই অভিযোগ করেছি।’রবিবার (৫ই অক্টোবর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে নওপাড়া গ্রামের ইসমোতারা উপরোক্ত লিখিত অভিযোগ করেন।এছাড়াও অসংখ্য ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ডাঃ ফারুক হোসেন মোল্লা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবসরে চেম্বার করেন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটির সময় তিনি সকল রোগীকে মোল্লা ডায়াগনস্টিকে টেস্ট করতে যেতে বলেন। মোল্লা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট না করলেই তিনি রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অমানবিক আচরণ করেন। অনেকেই বলেন, মোল্লা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তিনি একটি মোটা অংকের টেস্ট বাণিজ্য করেন। সেজন্যই তিনি এমন আচরণ করেন রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে।অভিযোগের বিষয়ে ডাক্তার ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। আমার বিরুদ্ধে কেউ কেউ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে। আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
