পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দরপত্র ছাড়াই সরকারি গাছের লগ বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অফিস বন্ধের দিনে কেন গাছ বাইরে গেছে তা নিয়েও চলছে নানান আলোচনা।শনিবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, সম্প্রতি কাটা নতুন গাছের বেশ কিছু লগ অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বাইরে সরানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়াঘাট এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বহু গাছ কাটা হয়। সেগুলো দেবীগঞ্জ বন বিভাগের কার্যালয়ে এনে সংরক্ষণ করা হয় যা পরবর্তীতে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির কথা ছিল।কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দেবীগঞ্জ সদর বিট কর্মকর্তা রিয়াজুল হাসনাত, মালি সাজু ইসলাম ও স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলামের সহায়তায় নতুন আনা গাছের লগগুলো পুরনো দরপত্রের সঙ্গে মিশিয়ে বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলামও পুরো বিষয়টি জানেন বলে সূত্র জানিয়েছে।শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালেও বেশ কয়েকটি ভ্যানে করে সদ্য কাটা ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের লগ বন বিভাগের অফিস থেকে বের হতে দেখা যায়।সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসের ভেতরে পুরনো কিছু লগ থাকলেও পূর্বদিকে নতুন করে স্তুপ করে রাখা গাছের পাশে গাছ টেনে নেওয়ার দাগ ও ভ্যানের চাকার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। পৌর এলাকার ডাকবাংলো সংলগ্ন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সোমিলের সামনে শতাধিক নতুন ইউক্যালিপটাস ও মিনজিরি গাছের লগ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এভাবে প্রায় বন বিভাগের গাছ বিভিন্ন ‘স’ মিলে রেখে পরে সুযোগ বুঝে পাচার করা হয়।স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, এসব গাছ স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলামের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ‘শনিবার সকালেও নতুন লগ আনা হয়েছে।’অনুসন্ধানে জাকিরুল ইসলাম নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর নাম উঠে আসে। বন বিভাগের গাছ পাচারে জাকিরুল বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা করেন। কখনো নিজে এই সব গাছ কিনেন আবার কখনো বাইরের পাইকারদের সঙ্গে বন বিভাগের লোকদের যোগাযোগ করিয়ে দেন।বন বিভাগের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘কিছু পুরনো গাছ অকশনে বিক্রি হয়েছে ঠিকই, তবে নতুন যেগুলো এসেছে সেগুলোর দরপত্র এখনো হয়নি। তবুও অফিস থেকে নতুন গাছ বাইরে গেছে এটা সত্য।’অভিযুক্ত কাঠ ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।বিট কর্মকর্তা রিয়াজুল হাসনাত বলেন, ‘আমি বাইরে ছিলাম। সাজুকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম দেখার। জাকিরুলের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে নতুন গাছ নিয়েছেন কি না।’ তবে কত গাছ অফিসে ছিল বা বাইরে গেছে সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।রেঞ্জ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরনো গাছের কিছু লগ জাকিরুল ভাইয়ের। নতুন গাছের দরপত্র এখনো হয়নি, শিগগিরই হবে।’ দরপত্র ছাড়াই গাছ বাইরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বাইরে আছি, পরে খোঁজ নিয়ে জানাব।’দিনাজপুর বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফাহিম মাসউদ বলেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে সেখানে গিয়েছিলাম। অভিযোগের বিষয়টি আমরা তদন্ত করব। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
