জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। একের পর এক ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রাম নদীতে বিলীন হচ্ছে। মৌসুমি ফসলের কয়েকশ হেক্টর জমি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার, ব্রিজসহ কয়েক হাজার বসতবাড়ি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে পুরো একটি ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের সরদারপাড়া দফাদারের ঘাট থেকে পোল্যাকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ভাঙনে ফারাজিপাড়া গ্রাম, প্যোল্যাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের বসতবাড়ি নদে বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে এই ধান, মরিচ, বাদাম, সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের কয়েকশ হেক্টর জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে সরদারপাড়া, ফারাজিপাড়া, পূর্ব ফারাজিপাড়া, পোল্যাকান্দি মধ্যপাড়া, নামাপাড়া গ্রামের শত শত বসতবাড়ি, ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি আলিম মাদ্রাসা, পোল্যাকান্দি সেতু, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা। এতে আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী।ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিমপাড় ঘেঁষে বইছে প্রবল স্রোত। তীব্র স্রোত থাকায় ক্রমাগত ভাঙছে নদের পাড়। স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক বছরের ভাঙনে নদীতে চলে গেছে সরদারপাড়া, ফারাজিপাড়া, পূর্ব ফারাজিপাড়া, পোল্যাকান্দি মধ্যপাড়া, নামাপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫০-২০০ বসতবাড়ি। এ ছাড়া বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি, বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা।পূর্ব ফারাজিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন মিয়ার ঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমার ঘরবাড়ি চারবার নদের ভাঙনের কবলে পড়ল। ভাঙন শুরু হলে রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরদারপাড়া, ফারাজিপাড়া, পূর্ব ফারাজিপাড়া, পোল্যাকান্দি মধ্যপাড়া, পোল্যাকান্দি নামাপাড়া গ্রামসহ পুরো ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক আয়নাল হক বলেন, ‘একসময় আমাদের আবাদি জমি ও বসতভিটা সবই ছিল। চলতি মৌসুমে সাড়ে ৪ বিঘা ধানের আবাদ করেছিলাম, তাও গত দুই সপ্তাহে বিলীন হয়েছে। সর্বনাশা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে আমার সবই বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে ঘর তুলে থাকি। দিনমজুরি করে দিনযাপন করছি। আমাদের দুঃখ এত দিনেও ঘুচল না। এখন অসময়ে ভাঙন শুরু হয়েছে, মাথা গোঁজার শেষ জায়গাটুকুও বুঝি শেষ হয়ে যায়।’বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে অসময়ে ব্রহ্মপুত্রে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানিয়েছি।’পোল্যাকান্দি এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান মিজান জানান, যে হারে নদী ভাঙছে, তাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। কবে জানি পুরো উপজেলা নদীতে বিলীন হয়ে যায় সেই শঙ্কা করছি। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, জিনজিরাম নদী ভাঙনের ফলে দিশেহারা আমরা। তাই নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানাই, দ্রত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান জানান, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর জন্য ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তারা ভাঙন রোধে সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আশা করছি, ভাঙন রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
