প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ফুটবল কসরতের শিল্পী আব্দুল হালিম আবারও গড়লেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড। মাথার ওপরে ফুটবল ব্যালান্স করে টানা ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে ‘দ্য গ্রেটেস্ট ডিসট্যান্স ট্রাভেল্ড অন এ বাইসাইকেল ব্যালান্সিং এ ফুটবল অন দ্য হেড’ শিরোনামে নতুন রেকর্ডের স্বীকৃতি পেলেন ৫০ বছর বয়সী এ ফুটবল জাদুকর।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাগুরা ইনডোর স্টেডিয়ামে কৃতিত্বপূর্ণ এ প্রদর্শনী করেন তিনি। যাচাই–বাছাই শেষে সেপ্টেম্বরে গিনেস কর্তৃপক্ষ রেকর্ডটি স্বীকৃতি দেয়।গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, মাথায় ফুটবল রেখে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি দূর যাওয়ার রেকর্ডের মালিক তিনি। এ রেকর্ড গড়তে নিজের রেকর্ডই ভেঙেছেন আবদুল হালিম।এর আগে ২০১৭ সালের জুন মাসে ঢাকায় ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিটে মাথায় বল নিয়ে ১৩ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে গিনেস বুকে রেকর্ড গড়েন তিনি। সাত বছরের বেশি সময় রেকর্ডটি তাঁর দখলেই ছিল। গিনেস বুকে তাঁর নাম প্রথমবার ওঠে ২০১১ সালে। ঐ বছরের ২২ অক্টোবর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বল মাথায় নিয়ে ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ হেঁটে রেকর্ড গড়েন। সেই রেকর্ড অবশ্য এখন হাতছাড়া হয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালে গিনেস বুকে নাম ওঠে তাঁর।আবদুল হালিম বলেন, ‘ছোটবেলায় এক গোলকিপারের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেখে এতে আগ্রহী হন তিনি। প্রায় ৩৩ বছর ফুটবল নিয়ে নানা খেলা শিখেছি, ও নিয়মিত চর্চা করি। এটাই আমার পেশা। এটা করতে গিয়ে অন্য কোনো কাজ আর শেখা হয়নি। ৯০ দশকের শুরুতে ফুটবলের কসরত শেখার নেশা তৈরি হয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা আব্দুল হালিমের। এরপর থেকে এটাই তাঁর পেশা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুটবলের কসরত দেখিয়ে যে সম্মানী পান, তা দিয়ে কোনোমতে চলে সংসার। আগে যে তিনবার রেকর্ড করেছিলেন, তখন স্পনসর (পৃষ্ঠপোষক) ছিল।নতুন রেকর্ডের স্বীকৃতির পর আবদুল হালিম বলেন, ‘গিনেস রেকর্ড করে দেশের সুনাম বাড়িয়েছি। কিন্তু এর বিনিময়ে তেমন কিছুই পাইনি। একটা রেকর্ড করতে অনেক সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া আমার মতো মানুষ এটা কীভাবে করবে? আবদুল হালিম যে কসরত ও কৌশল রপ্ত করেছেন, সেগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান।মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া হালিমের সাফল্যে এলাকাবাসী উচ্ছ্বসিত। তরুণরা তাঁর অনুপ্রেরণায় ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক (জেলা প্রশাসক) মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, আব্দুল হালিমের অর্জনে আমরা গর্বিত। তাঁর অগ্রযাত্রায় ক্রীড়া সংস্থাগুলো পাশে থাকবে।’এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
