টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি নিয়ে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ায় এক নারীকে (৩০) গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গাছে বেঁধে রাখার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। আহত ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাজাইল গ্রামে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে নির্যাতিত ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক ধরে ওই নারীর সঙ্গে উপজেলার বাজাইল গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আব্দুর রশিদের (২১) সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস ছয়েক আগে তারা আদালতে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়েও করেন। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা স্বামীর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও থেকেছেন। কিছুদিন ধরে ওই নারীর সঙ্গে আব্দুর রশিদ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে রশিদ বিয়ে করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ১০টার দিকে ওই নারী স্ত্রীর দাবি নিয়ে রশিদের বাড়িতে অনশনে বসেন। দুপুরের দিকে রশিদ এবং বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সামনে একটি গাছের মধ্যে ওই নারীকে বেঁধে মারধর করেন। তাঁর দুই হাত, দুই পা, বাহু, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।খবর পেয়ে স্থানীয় একজন গণমাধ্যম কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ওই নারীকে গাছের সঙ্গে বাধা অবস্থায় রেখে তারা দ্রত সটকে পড়েন। নারীকে গাছে বেঁধে রেখেছেন এমন ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখে মেয়েটির বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী বলেন, ‘স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে পেতে রশিদের বাড়িতে অনশনে বসেছিলাম। তাঁর পরিবারের সদস্যরা আমাকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। আমাকে ৩০ মিনিট পেটানো হয়েছে। আমি এ নির্যাতনের বিচার দাবি করছি।’এ বিষয়ে জানতে আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ওই নারী আমার সঙ্গে প্রেম করার সময় তাঁর বয়স, আগের বিয়ে, দুই সন্তান এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন রেখেছিলেন। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। মাস দুয়েক আগে বাসুলিয়া বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে ওই নারীর বোনের জামাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের আটক করে কাবিননামায় স্বাক্ষর রাখেন। আমার চেয়ে ওই নারী ১০ বছরের বড়। কয়েকদিন আগেও আমাদের বাড়িতে উঠেছিল। বারবার বিরক্ত করায় তাঁকে গাছে বেঁধেছিলাম। কিন্তু কোনো প্রকার নির্যাতন করিনি। মেয়েটির ভয়ে আমরা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছি।’সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভুঞা বলেন, ‘গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে মেয়েটির বাবা থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
