হিরসুটিজম বা হরমোনজনিত রোগে আক্রান্ত বিরল বৈশিষ্টের একটি পরিবার মানবেতর বসবাস করছেন জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার ফকিরপাড়া গ্রামে । হতদরিদ্র পরিবারটির প্রতিটি সদস্যের সারা শরীরজুড়ে রয়েছে অস্বাভাবিক ঘন লোম। বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদেরকে স্থানীয়রা ‘লোম মানব’ পরিবার বা ‘দাঁড়িওয়ালা মানব’ বলে ডাকেন।পরিবারটির সদস্য সংখ্যা ১২ জন। প্রত্যেকের গায়ে অস্বাভাবিক লোম, এই লোমের কারনে তারা সমাজ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। স্থানীয় কারোর কাছে তারা ভয়ের কারণ, কেউ বা করেন হাসি-তামশা। পরিবারটির অভিযোগ- সমাজের কেউ মিশতে চায় না তাদের সাথে, দরিদ্র-অসহায় পরিবারটির সহায়তা এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কোন সামাজিক সংগঠন ও সরকারি দপ্তর।পরিবারের মেয়ে-ছেলে উভয়ের শরীরেই রয়েছে অস্বাভাবিক লোম। যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাব ফেলছে। মানবেতর জীবনযাপন যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। সমাজের কৌতূহল আর কটূকথার আঘাতে তারা সাধারণ জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক ও সরকারি সহায়তা চায় পরিবারটি।নারী সদস্য শিরিনা আক্তার জানান, তার বিয়ে হয়েছিলো, তার স্বামী তাকে দেখেন অবহেলার চোঁখে। স্বামীর বাড়ির আত্মীয়রা কেউ তাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে চায় না, তাই বাধ্য হয়ে গরীব বাবার ঘরেই রয়েছেন কষ্টে করে।পরিবারের আরেক সদস্য ভোলা হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাইরে কোন কাজে গেলে সবাই তাদেরকে এড়িয়ে চলে, অনেক সময় পাশে দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয় না।ইসলামপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জুলহাস মন্ডল জানান, পরিবারটিতে অভাব অনটন সব সময় লেগে থাকে। তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান ।চিকিৎসা বিজ্ঞানে হরমোনজনিত এই সমস্যাটিকে হিরসুটিজম বলে। এটি এমন একটি অবস্থা যা অনেক ব্যক্তিকে, বিশেষ করে মহিলাদের, প্রভাবিত করে। শরীরের এমন অংশে অতিরিক্ত লোম গজায় যেখানে সাধারণত লোম থাকে না বা থাকে না। এর মধ্যে মুখ, বুক, পিঠ এবং পেট অন্তর্ভুক্ত। হিরসুটিজম তখন ঘটে যখন পুরুষ হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের অতিরিক্ত উৎপাদন হয়। এই হরমোন ভারসাম্যহীনতা বিভিন্ন কারণের কারণে হতে পারে যেমন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির ব্যাধি, কিছু ওষুধ বা বংশগত কারণ। হিরসুটিজমের উপস্থিতি আক্রান্তদের উপর উল্লেখযোগ্য মানসিক এবং মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি আত্ম-সচেতনতা, কম আত্মসম্মান এবং সামাজিক উদ্বেগের অনুভূতির কারণ হতে পারে। অতএব, চিকিৎসা এবং প্রসাধনী উভয় দিক থেকেই এই অবস্থার সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা, এ এ এম আবু তাহের বলেন, এটি হরমোনজনিত রোগ। যেহেতু বংশ পরম্পরায় হয়, তাই বিচলিত হবার কিছু নেই। সমাজের সবাই যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলেই হয়তো এই পরিবারও ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবনের আলো।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
