গাজীপুরের শ্রীপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত ১৬ বছর বয়সী কিশোর বাপ্পি মিয়া বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।গত বছরের ৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলার মাওনা হাইওয়ে থানার সামনে পুলিশের গুলিতে কোমরের নিচে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয় বাপ্পি। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে।আহত হওয়ার পর থেকে বাপ্পির শরীরের নিচের অংশে পচন ধরেছে। ইতোমধ্যে দুই দফায় অপারেশন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে বাঁচাতে হলে আরও একটি জরুরি অপারেশন করাতে হবে, যা বিদেশে নিয়ে করা প্রয়োজন।বাপ্পির বাবা সুমন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে এখন শুধু উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে পারে। কোমরের নিচে গুলি লেগে শরীরের পেছনের অংশে পচন ধরেছে। প্রতিদিন ওর চিকিৎসায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। আমি ভাড়াবাসায় থাকি, দিনমজুরের কাজ করি। আমার পক্ষে এই খরচ আর বহন করা সম্ভব নয়। সরকারি কর্তৃপক্ষ বলেছে অপারেশনের ব্যবস্থা করবে, তবে তার আগে পাসপোর্ট করে বিদেশে নিতে হবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, আমার ছেলের জন্য দোয়া করুন এবং যার যা সামর্থ্য আছে সাহায্য করুন।’বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, গাজীপুর জেলার মুখপাত্র আসাদুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘বাপ্পি আমাদের সাথে আন্দোলন করেছে, আর এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এটা খুবই দুঃখজনক। এখনো সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। সরকার থেকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনো দেওয়া হয়নি। আমরা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ১৫টি সেল গঠন করব এবং আহত-নিহতদের তালিকা করে সরকারের কাছে সহায়তার জন্য উদ্যোগ নেব।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
