অভাবের তাড়নায় যমজ সন্তানের একটি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন নেত্রকোণা পৌর শহরের আনন্দবাজার এলাকার হতদরিদ্র রাজন-সুমা দম্পতি। তবে শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর উদ্যোগ ও জেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা।বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিশু কল্যাণ বোর্ডের মিটিংয়ে এমন তথ্য পেয়ে রাতে জেলা প্রশাসক উপস্থিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে শিশু খাদ্যসহ প্রাথমিকভাবে কিছু সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারটিকে উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসেন।রাজন-সুমা দম্পতির সংসার খুবই অভাবী। একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন তারা, যার চারপাশে ঘেরা আছে ইউনিসেফের দেওয়া ত্রিপল। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে সন্তানের বয়স যথাক্রমে ৬ বছর ও ৩ বছর। দুই মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় আরও দুটি যমজ সন্তান-এক ছেলে ও এক মেয়ে। দারিদ্র্যের চাপে তারা যমজ সন্তানের একটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকায় আলোচনা করেন।এ খবর পেয়ে শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী আশরাফুল আলম সানি এবং মো. হাবিল মিয়া এগিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় তারা উত্থাপন করলে জেলা প্রশাসক নিজে পরিবারটি পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান, শিশু খাদ্যসহ স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন জানান, পরিবারটি অনেকদিন ধরে অসহায় দিন যাপন করছে। রাজনের কোনো কাজ কাম না থাকায় বাচ্চাগুলো অবস্থা নাজুক। এই এলাকার প্রায় সকল বসতিরা দরিদ্র, এখানে কে কাকে সহযোগিতা করবে।শিশুদের বাবা রাজন জানান, কখনো রাজমিস্ত্রী, কখনো দৈনিক মজুরিতে যেকোনো কাজ, কখনো রিকশা চালান। তবে গত ৬-৭ মাস ধরে কোনো কাজ পাচ্ছেন না। অভাবের কারণেই তারা এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন। এখন আর কখনো এ ধরনের কাজে জড়াবেন না বলেও প্রতিজ্ঞা করেছেন রাজন-সুমা দম্পতি।শিশুর মা সুমা জানায়, একটি ধনী পরিবারের কোনো সন্তান না থাকায় তারা আমাদের একটি সন্তানকে নিতে চেয়েছিল। যেহেতু আমরা অভাবে আছি, আমাদের কোনো আয় রোজগার নেই, আমরাও চেয়েছিলাম কিছু টাকা পেয়ে যদি কিছুটা সচ্ছল হতে পারি। পরবর্তীতে সমাজসেবার অফিসাররা এসে আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিলে আমরা শিশু বিক্রির চিন্তা বাদ দিলাম।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, আমরা সরাসরি পরিবারটি দেখে এসেছি। পরিবারটি যেখানে বাস করে, আসলে এটি একটি বস্তি এলাকা। তাদের যেহেতু কোনো আয় রোজগার নেই, তাই তারা সন্তান বিক্রির চিন্তা করেছিল। এখন আমরা সমস্যার সহযোগিতায় পরিবারটিকে আয়ের ব্যবস্থা করে দেবো এবং শিশু দুটিকে বছরের দুধের খরচ জেলা প্রশাসন থেকে গ্রহণ করবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
