শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আলমকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতাকে অর্থের বিনিময়ে থানার ভেতরে ভিআইপি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) তানভীর হোসেন।স্থানীয় ও থানার সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি এক বছর দুই মাস সাজাপ্রাপ্ত আসামি, গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিটন হাওলাদারকে গ্রেফতারের পর থানা হাজতে অস্বাভাবিক বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে হাজতের ভেতরেই ব্যারাক থেকে আনা খাট, তোষক, বালিশ দিয়ে আরামদায়ক ভিআইপি বিছানা করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, আটক আসামিকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সময়ের কণ্ঠস্বরসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। পরে জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নজরে যায়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ওসি মাকসুদ আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) তানভীর হোসেন বলেন, ‘গোসাইরহাট থানার ওসি মাকসুদ আলমকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে থেকে যদি কেউ অর্থের বিনিময়ে আসামিকে বিশেষ সুবিধা দেন, তবে জনগণের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হবে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
