পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার এক পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে শিশুর বাবার সঙ্গে ডাক্তারের বিরূপ আচরণ ও অসামাজিক কথাবার্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট হওয়া মাত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।রোগীর অভিভাবকের প্রতি ডাক্তারের বিরূপ আচরণ ও অসামাজিক কথাবার্তায় নেটিজেনরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের নাম আবুল কাশেম। বিসিএস ২৮ ব্যাচের এই কর্মকর্তা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।জানা গেছে, বৃহস্পতিবার শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় ডা. আবুল কাশেম ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ৩ নাম্বার বেডের শিশুর বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। শুধু তাই নয়, পাশে দুইজন নারী নার্স থাকলেও সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না এই ডাক্তারের।ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ডাক্তার আবুল কাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘এই বেটা থানাত যায়া পড়ে রহিবো। বুঝিস নাই? কাগজখান লে থানাত যায়া পড়ে রইস। কি বালটা পারিস, করিস। হাসপাতালটাক তোমরা চিড়িয়াখানা পাইছো। চিড়িয়াখানার মতো ভর্তি হবা। ব্লেড কিনে নিয়া যায়া বাল কামাইয়ো। চুরি করিস নাকি রে নাকটা দিয়া কথা কইস।’এই সময় পাশ থেকে রোগীর এক স্বজন বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে কথা বলতে সমস্যা হয়।’ ডাক্তার এই সময় বলেন, ‘হোক সমস্যা, জোরে কথা কহিবে।’এক পর্যায়ে ডাক্তারকে বলতে শোনা যায়, ‘নাকের ডগা একদম ফাটায় দিব। থোতমা উল্টায় দিম।’ এই সময় রোগীর বাবার দিকে এগিয়ে গিয়ে মাইর দেওয়ার অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় এই ডাক্তারকে।ঘটনার শেষের দিকে ওই ডাক্তার নার্সকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই ছুটি দাও। ছুটির কাগজ লেখে দিম। ছুটির কাগজটা লে তুই এলা বাড়ি যাবো। যায়া থানাত যায়া পড়ি থাকিস।’এইদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় নেটিজেনরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আব্দুল কুদ্দুস নামে একজন বলেন, ‘ওর জন্মে ভেঙাল আছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে নার্স ও ডাক্তার এমনি করে।’ মর্তুজা রাব্বি সাজু লিখেন, ‘এইটা তো দেখি ডাক্তার নামের কলঙ্ক। একজন ডাক্তারের আচরণ কিছুতেই এমন হতে পারে না। একে অতিসত্বর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। সেই সাথে তার বিএমডিসি লাইসেন্স বাতিল করে তাকে সমস্ত চিকিৎসা প্রদান থেকে আজীবন বহিষ্কার করা উচিত।’জুনায়েদ হোসেন নামে তরুণ এক শিক্ষক বলেন, ‘ওনার এই বেয়াদবি ভাইরাল করেন। যেন উনি পরিচিত লোকজনকে মুখ দেখাতে না পারে। ওনার সন্তানরা দেখুক তাদের বাবা গরীব নীরিহ রোগীদের কিভাবে ট্রিট করে। এদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করা ছাড়া উপায় নাই।’সবুজ ইসলাম বলেন, ‘ডাক্তারের কোনো বৈশিষ্ট্য ওনার মাঝে নেই। ওনাকেই চিড়িয়াখানায় পাঠান হউক পশুদের চিকিৎসা করানোর জন্য।’হারুন বাবু মন্তব্য করেন, ‘মনে হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন চিকিৎসক! রোগীর সঙ্গে থাকা পুরুষ মানুষদের পাশে মহিলা নার্সদের সামনে এসব ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’আবু তারিফ মো: রাকিব বলেন, ‘এ ডাক্তার না মাস্তান। এ ধরনের বেয়াদবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত কাম্য। গণমাধ্যমে প্রচার করুন। তার এমন অশালীন অসভ্য কথা সত্যিই ভাবিয়ে তোলে।’এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাক্তারকে মুঠোফোনে কলে দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।অপরদিকে বিষয়টি নজরে আসায় অভিযুক্ত ডাক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান। পরবর্তী ব্যবস্থা জবাব পাওয়ার পর নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলার মুন্সিপাড়ায় ধর্ষণের শিকার পাঁচ বছরের শিশুটিকে পরদিন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক। এই ঘটনায় বুধবার রাতে কনিক রায় নামে একজনকে আসামী করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
