লোহাগাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধনের ৭ বছর পার হলেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ১ কোটি ৮৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটি নিজের জৌলুশ হারাচ্ছে। ভবনটি উপজেলা শহর আমিরাবাদ বটতলী ও উপজেলা পরিষদ থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অনেকে আসতে চান না। এদিকে ভবনের বাইরে ময়লা আর দুর্গন্ধ। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কিছুটা হামলার শিকার হয় ভবনটি। ফলে ভবনের ভেতরে থাকা অনেক আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাই ভবন থাকলেও ভবনটির কাজ নেই বলছেন স্থানীয়রা।উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কোনো কমিটি না থাকায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।উপজেলার আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজের পাশে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে এই মুক্তিযোদ্ধা ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে সেটি উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর লোহাগাড়া উপজেলার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হয়।উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই ভবনটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত চারতলা ভিত্তির তিনতলা কমপ্লেক্স ভবনের তিনতলায় মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস, মিলনায়তন, টয়লেট, লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম রয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, নান্দনিক নকশায় নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বাইরে ময়লা আর দুর্গন্ধ। ভবনটি দেখার জন্য নেই কোনো কেয়ারটেকার। ফলে ভবনের চারপাশে ময়লা-অবর্জনায় ভরে গেছে।বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার আহমদ সিকদার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্বে আছেন লোহাগাড়ার ইউএনও। তিনি বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বাজার থেকে একটু দূরে হওয়ায় মানুষ রুম ভাড়া নিতে আগ্রহ নেই।’লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চেষ্টা করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি চালুর জন্য। কিন্তু যাদের জন্য করা তারা কেউ কমপ্লেক্সে আসছেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে রুমগুলো বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের প্রাণ ফিরে পাবে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
