দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত শিক্ষক’ নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক ৫টি রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করা হোক, নইলে ইসলামপ্রেমিক জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। অপরদিকে, এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস ড. ওয়ালীয়ুর রহমান বলেন, ‘নাচ-গান শেখানোতে শিক্ষক নিয়োগ অপ্রয়োজনীয়, অপচয়মূলক ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ।’মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা। দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে এই সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও নৃত্যের শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।সেসময় নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরোক্ষভাবে নাস্তিক্যবাদী দর্শনের সঙ্গে জড়িত। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঈমানহারা করার ষড়যন্ত্র। স্কুল শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করার পায়তারা। অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে পেছনের দিকে টেনে নিতে চায়। তাদের এই সুযোগ দেওয়া হবে না। নাচ-গানের অপসংস্কৃতির মূলোৎপাটন করা হবে। প্রয়োজনে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাইমারিতে নাচ-গান শেখানো বা এজন্য শিক্ষক নিয়োগ একটি অপ্রয়োজনীয়, অপচয়মূলক ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ।’তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানসহ জরুরি বিষয়গুলোতে দুর্বল হওয়ার কারণে দেশে-বিদেশে সর্বত্র পিছিয়ে আছে। নিজ নিজ ধর্ম, আদব, আখলাক ও নৈতিকতা সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ার কারণে মিথ্যা, দুর্নীতি ও অনাচার থেকে মুক্ত হতে পারে না। সেখানে নাচ-গান শেখানোর অর্থ হলো- সেসব জরুরি বিষয়ের সময় কমিয়ে গুরুত্বহীন বিষয়ের বোঝা কোমলমতি শিশুদের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া।‘উন্নত বিশ্ব উন্নতি করেছে সততা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা করে। আরব বিশ্ব ধনী বা উন্নত হয়েছে ধর্মীয় অনুশাসন, ন্যায়বিচার ও সম্পদের সুষ্ঠু আহরণ ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে। তারা ঢালাওভাবে নাচ-গান শেখায়নি। বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সব স্কুলে নাচ-গান শেখানোর চিন্তাকে কোনো সচেতন ও দেশপ্রেমিক সমর্থন করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
