ভোলায় মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের ২ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন চন্দ্র সরকার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।গ্রেপ্তারকৃত দুই নেতা হলেন- সংগঠনটির ভোলা জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাকিব হোসেন (৩০) ও সিনিয়র সদস্যসচিব হাসান মুনতাছির রহমান (২০)। এর মধ্যে রাকিব সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের আবুল খায়েরের ছেলে এবং হাসান মুনতাছির একই ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের ছেলে।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গেল ১৯ জুন উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে আল আমিন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার একদিন পর আল আমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে ভোলা সদর থানায় একটি চুরির মামলা করেন। এ মামলার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত রাকিব ও মুনতাছির রহমান স্থানীয় মো. শেখ ফরিদের নাতি মো. জিতুকে জড়িত আছে বলে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন।তিনি আরও জানান, গেল ২৬ জুলাই শেখ ফরিদের বাড়িতে গিয়ে তার নাতি মো. জিতুকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পুলিশকে ম্যানেজ করার কথা বলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একাধিকবার তার বাড়িতে গিয়ে ওই টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় গত ৩ আগস্ট তাদের দেড় লাখ টাকা দেন শেখ ফরিদ। পরবর্তীতে আবারও শেখ ফরিদের বাড়িতে গিয়ে আরো ১০ হাজার টাকা নেয় তারা। এর পর আবারও পুলিশের কথা বলে আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করলে বিষয়টি জিতুর পরিবারের কাছে সন্দেহ হয়।পরে জিতুর পরিবার ভোলা থানায় এসে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার আলোকে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় দুই আসামি মো. রাকিব ও হাসান মুনতাছির রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মোট এক লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই দুইজন পুলিশের কাছে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন চন্দ্র সরকার। পরবর্তীতে তাদেরকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এদিকে সংগঠনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকে স্থায়ীভাবে (আজীবন) সকল প্রকার পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক সালেহ মাহমুদ রায়হান ও সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনটি।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
