ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পরিবর্তনের আশায় রুবেন আমোরিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন তার কোচিং নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। ক্লাবের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্লাব কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি। তার মতে, ইউনাইটেডের সম্মান রক্ষা করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব আমোরিমের জায়গায় নতুন কাউকে আনতে হবে।ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডকে এক সময় “থিয়েটার অব ড্রিমস” বলা হতো। কিন্তু এখন এটি নিষ্প্রাণ এক স্টেডিয়ামে পরিণত হয়েছে। এক সময় যা ছিলো গর্বের জায়গা, এখন সেখানে শুধুই হতাশা আর ভাঙনের ছাপ। এরিক টেন হ্যাগের সময় যা খারাপ ছিল, এখন তা যেন আরও তলানিতে পৌঁছেছে। দশ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো দলকে গোছাতে পারেননি রুবেন আমোরিম।সাম্প্রতিক ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সিটির বিপক্ষে বাজে হারের পর সমালোচনার তীর ছুটে যাচ্ছে কোচ আমোরিমের দিকে। সমর্থকরাও তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন ক্রমেই। এমন অবস্থায় বিবিসির ‘দ্য ওয়েইন রুনি শো’তে ইউনাইটেডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি।রুনি বলেন, ‘আমি সবসময় ইউনাইটেডের খেলোয়াড় ও কোচদের সমর্থন করে এসেছি, কিন্তু এখন ক্লাব এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ইতিবাচক কিছু খুঁজে পাওয়াই যাচ্ছে না। ডার্বির সময় শেষে যখন দেখি, দর্শকরা মাঝপথেই স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাচ্ছে— সেটা হৃদয় ভেঙে দেয়। ইউনাইটেডের ইতিহাসে এমন কিছুর কথা মনে পড়ে না। মনে হচ্ছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষেরও এখন আর আমোরিমের ওপর আস্থা নেই।’দল পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমোরিম ট্রান্সফার মার্কেটে ইতোমধ্যে খরচ করেছেন প্রায় ২৫ কোটি পাউন্ড। কিন্তু সেই বিনিয়োগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না মাঠের পারফরম্যান্সে। গত মৌসুমে যেখানে দল লিগ টেবিলে ছিল ১৫ নম্বরে, সেখানে এবারও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এমনকি অনেকে বলছেন, আগের পরিস্থিতিই বরং ভালো ছিল।রুনির আশঙ্কা আরও গা ছমছমে। তিনি বলেন, ‘আমরা কি আবার সেই ১৯৭৩ সালের ভয়াবহ সময়ের দিকে এগোচ্ছি না তো?’উল্লেখ্য, ওই বছরই সর্বশেষবার ইউনাইটেড অবনমনের শঙ্কায় পড়েছিল।তিনি আরও বলেন, ‘আমোরিমকে আনার সময় বলা হয়েছিল, তিনি ওল্ড ট্রাফোর্ডের রূপ বদলে দেবেন। কিন্তু এখন দেখছি সবই ছিল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চেলসির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
