চিকিৎসা ব্যয় যোগাতে নিত্যসঙ্গী হুইল চেয়ার বিক্রি করতে শার্শার জামতলা থেকে যশোর গিয়েছিলেন প্রতিবন্ধী মহসিনা খাতুন। কিন্তু বিধি বাম। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে হুইল চেয়ার খোয়ালেন তিনি। একদিকে চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে অন্ধের ষষ্টি হুইল চেয়ার হারিয়ে মহসিনা খাতুনের জীবনে নেমে এসেছিল ঘোর অমানিশা। দু’চোখের জলে বুক ভাসালেও কারো মনে জাগেনি এতটুকু সহানুভূতি।বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার মাত্রই মহসিনার পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। যশোর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহসিনার সামটা গ্রামের বাড়ি গিয়ে একটি নতুন হুইল চেয়ারসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছেন।শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সামটা গ্রামের আল আমিনের স্ত্রী মহসিনা খাতুন। শৈশব থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী তিনি। আল আমিন শার্শা জামতলার মিষ্টির কারিগর। বছর পাঁচেক আগে ভ্যানযোগে বাজারে আসার পথে পরিবহনের ধাক্কায় দুর্ঘটনায় তিনিও শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। জীবন জীবিকার তাগিদে আল আমিন ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চালান। সামটা আলিয়া মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া ছেলে সাকিবুল হাসানকে নিয়ে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার। বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রী মহসিনার জন্য ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি হুইল চেয়ার তৈরি করেছিলেন।বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ মহসিনা। বার বার বলার পরও স্ত্রীর চিকিৎসার টাকা যোগাতে পারছিলেন না। ধার দেনারও চেষ্টা করেন, কিন্তু কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি। অগত্যা মহসিনা সিদ্ধান্ত নেন নিজের হুইল চেয়ারটি বিক্রি করে ডাক্তার দেখাবেন। সেজন্য তিনি শনিবার দুপুরের পর জামতলা থেকে বাসযোগে যশোর আসেন। এখানে সেখানে ঘুরে সন্ধ্যার দিকে বড়বাজারে আসলে তার সাথে দেখা হয় কালো টি শার্ট আর সাদা কালো স্ট্রাইপের জিন্স পরা ১৭/১৮ বছরের এক যুবকের। কথার জালে আটকে ফেলেন মহসিনাকে। সহানুভূতিপূর্ণ কথায় অপরিচিত হলেও তাকে আপন ভেবে ফেলেন মহসিনা।যুবকটি তাকে আশ্বস্ত করেন তার হুইল চেয়ারটি তিনি বিক্রি করে দেবেন। দাম দর ঠিক হয়। তবে যুবকটি শর্ত দেন হুইল চেয়ারটি তাকে দিতে হবে ক্রেতাকে দেখানোর জন্য। তারপরই বিক্রয়লব্ধ টাকা তাকে এনে দিবেন। সরল বিশ্বাসে যুবকটিকে হুইল চেয়ারটি দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি।সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত চলে আসে, তবু আর আসেন না সেই যুবক। বিষয়টি বুঝতে পেরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। কোন উপায় না পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে রাত সাড়ে দশটার দিকে বাড়ি ফিরে যান তিনি। এই ঘটনা জানার পর ভেঙে পড়ে দরিদ্র এই পরিবারটি।ফেসবুকে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে মহসিনার ভিডিও আপলোড হয়। সেটি দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. কাজী নাজিব হাসানকে নির্দেশনা দেন। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শার্শার ইউএনও কাজী নাজিব হাসান নতুন একটি হুইল চেয়ার ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হন মহসিনার পর্ণ কুটিরে। সেখানে পৌঁছালে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।অশ্রুস্বজল চোখে আল আমিন ও মহসিনা দম্পত্তি জানান, গরীবের নালিশ শুধু খোদার কাছেই। কিন্তু আমাদের এই বিপদে যে কেউ পাশে দাঁড়াবে সেটা ছিল কল্পনাতীত।উদ্যোগের বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন, ফেসবুকের পোস্টটি ডিসি স্যার ও আমাদের নজরে আসে। ডিসি স্যার আমাকে বিষয়টি দেখতে বলেন। পরে আমরা ওই প্রতিবন্ধী নারীর খোঁজ করে বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে তাকে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
