যশোরের মণিরামপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থী মাহমুদা সিদ্দিকাকে (১৩) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) মণিরামপুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। নিহত মাহমুদা সিদ্দিকা উপজেলার রোহিতা গ্রামের আরিফুল হকের মেয়ে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর রোহিতা গ্রামের একটি পুকুর থেকে কিশোরীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রুটি চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সাঁতার না জানা কিশোরী পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চলে। আগের দিন মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে গ্রামে একটি দোকান থেকে রুটি চুরি করায় কিশোরী জনসমক্ষে তার মা জুতা দিয়ে পেটান। এতে অভিমানে আত্মহত্যা করতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় মণিরামপুর থানা পুলিশ। এরপর উন্মোচিত হতে থাকে কিশোরীর মৃত্যুর রহস্য।ঘটনায় জড়িত অপরাধী ধর্ষণসহ হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে কুটকৌশলের আশ্রয় নেয়। এতে দোকানের রুটি চুরির অপবাদ মাথায় রেখে ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতেই মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অনেকেই ধারণা করছেন। তবে, পুলিশ কয়েকটি ইস্যুকে সামনে রেখে এ ঘটনায় জড়িতকে শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।নিহতের মা জানান, মৃত্যুর আগের দিন রুটি চুরির কথা দোকান মালিক আলী হাসান জানালে তিনি সেখানে গিয়ে মেয়েকে জুতা দিয়ে মারপিট করে বাড়িতে আনেন। ওই দিন বেলা আনুমানিক সাড়ে তিনটা পর্যন্ত তার সাথে মেয়ে গোয়ালঘর পরিষ্কারের কাজ করেছে। পরে কখন বাড়ি থেকে বের হয়, তিনি জানতে পারেননি। প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সম্মানের কথা ভেবে কাউকে না জানিয়ে নিজেরাই খুঁজতে থাকেন। পরদিন পুকুর থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হয়।নিহতের পিতা আরিফুল হক বলেন, তার মেয়ে একটি কওমী মাদ্রাসায় মিজান (সপ্তম শ্রেণি) ক্লাসে পড়তো। তিনি পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে ইমামতি করেন।স্থানীয় কলেজ পড়ুয়া মিম জানান, ওইদিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় কিশোরীকে পুকুরে গোসল করতে দেখেন, কিন্তু ফেরার সময় আর দেখেননি।নিহত কিশোরীর বাড়ি থেকে পুকুরে যেতে ঘন বাগান পার হতে হয়। তাদের বাড়িও অনেকটা নির্জন এলাকায়। অনেকের ধারণা, গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। সেটিকে ধামাচাপা দিতে কিশোরীকে হত্যা করা হয়। পরে ধর্ষণের আলামত নষ্টসহ পুরো ঘটনা আড়াল করতে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে কিশোরীর মরদেহ সুযোগ বুঝে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ডা. বাবুল কিশোর প্রতিবেদন দাখিলের আগে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।এ ঘটনায় থানায় ধর্ষণসহ হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বিধায় কিশোরী মাহমুদা সিদ্দিকার উপর নৃশংসতার ঘটনাটি পরিষ্কার।মণিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার কথা নিশ্চিত করেছেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
