দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার হাবিবপুর দয়ারপাড়া গ্রামে সম্প্রতি এক চীনা নাগরিকের আগমন ঘটেছে। স্থানীয় রিতা বেগমের বাসায় অবস্থান করছেন লি ছোয়াচো নামের ওই বিদেশি অতিথি। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।রিতা বেগম জানান, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও একটি আন্তর্জাতিক চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে লি ছোয়াচোর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে লি ছোয়াচো তাকে বোন হিসেবে দেখতে চান এবং পরিবার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন।রিতা বলেন, “আমি তাকে ভিডিও কলে আমার মা’র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। তখন সে আমার মাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে। আমাদের পারিবারিক আলোচনার পর তাকে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেওয়া হয়।”গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে রিতা বেগম, তার বাবা ও জামাই তাকে রিসিভ করেন। পরে প্রাইভেট কারে তাকে দিনাজপুরের বিরামপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।লি ছোয়াচো এখন রিতা বেগমের বাসায় অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানছেন। তার আগমন ঘিরে এলাকাজুড়ে কৌতূহলী মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়টিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রিতা বেগম।তিনি বলেন, “গুজব রটানো হচ্ছে যে, তিনি নাকি প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসেছেন। এটা পুরোপুরি মিথ্যা। আমার সংসার আছে, সন্তান আছে। কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছড়াচ্ছে যাতে আমার মান-সম্মান নষ্ট হয়।”এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন,“লি ছোয়াচো আমাদের গ্রামের অতিথি। তাকে আমরা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছি। কারও গুজবে কান না দিয়ে বিষয়টিকে ভালো দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত।”এ বিষয়ে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন,“গতকাল রাতে জানতে পারি, চীনের এক নাগরিক লি সুয়েজং হাবিবপুর দয়ারপাড়া গ্রামে শরিফুল ইসলামের বাড়িতে এসেছেন। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিতা মনি বৃষ্টি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে চীনা নাগরিকটি তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
