মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মুন্সী কাদিরপুর ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি প্রকাশ পেলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার অখিলদ্দিন মুন্সী কান্দি গ্রামে চলতি বছরের ১ আগস্ট আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সেলিম মাদবর (৫০) ও ওবায়দুর ঢালী (৪১) জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেন। ভুক্তভোগী মো. বাদশা মিয়া খালাসী ও আবুল বাসার খালাসী জানান, ‘পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৩১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৫০ শতাংশে আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে চাষাবাদ করছি। বাকিটিতে বসতবাড়ি রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও অভিযুক্তরা বড়ই, লেবু, পেয়ারা ও মাল্টাসহ অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেছে। আমরা জমিতে গেলে নানা হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।’ তারা আরও জানান, জমিটি তাদের বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। বোনেরা ভুলবশত বিক্রি করে দেওয়ায় মামলা হয় এবং আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবুও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাদশা খালাসীর ছেলে তানভীর খালাসী বলেন, ‘ওরা প্রভাবশালী, গায়ের জোরে জমি দখলে যা দরকার তাই করছে। এভাবেই আমাদের বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ অভিযুক্ত সেলিম মাদবর দাবি করেন, ‘এই জমি একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। বাদশা খালাসীর বোনেরা ২০২০ সালে বিক্রি করেছে। পরে মালিকানা পরিবর্তনের পর ২০২৩ সালে আমি জমিটি কিনেছি। ক্রয়সূত্রে আমি বৈধ মালিক।’ অন্যদিকে অভিযুক্ত ওবায়দুর ঢালী বলেন, ‘এক দাগে প্রায় তাদের অনেক জমির মধ্যে বাদশার বোনেরা ৫০ শতাংশ বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সেলিম মাদবর ১০ শতাংশ এবং আমার বোন ৪০ শতাংশ জমি কিনেছে। এখন তারা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।’ এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, ‘গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছি। জমির প্রকৃত মালিকানা আদালতই নির্ধারণ করবে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাছ কাটা আইনবহির্ভূত। এ ঘটনায় নতুন করে মামলা হয়েছে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
