জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে এই আলোচনা হবে। আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগেও দুই দফায় কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপে বসেছিল। সেই আলোচনায় সংবিধান সংস্কার, নির্বাচন পদ্ধতি, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারসহ মোট ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য গঠিত হয়। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া, যা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।মূলত গত জুলাই মাসেই এই সনদে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে একমত না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। অবশ্য এটি বাস্তবায়নের উপায় এই সনদের অংশ নয়; এটি নিয়ে আলাদা সুপারিশ পেশ করবে ঐকমত্য কমিশন।কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াও দলগুলোর কাছ থেকে লিখিত মতামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।সব মতামতের সমন্বয়ে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। সেখানে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করা হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রস্তাব সংবিধানের আওতায় পড়ে না, সেগুলো অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করার সুপারিশ করা হচ্ছে।কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ গঠনের পর দুই বছরের মধ্যে সংবিধান সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যকর হোক। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির ঘোষণার (Proclamation) মাধ্যমে বা গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চায় গণপরিষদ গঠন করে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে।এছাড়াও আরও অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দল সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। কমিশনের একাধিক সদস্যের মতে, এসব ভিন্নমতের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন নিয়ে সরাসরি সুপারিশ করলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, সকল দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেই একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির সুপারিশ করা হবে।এ আলোচনায় ৩০টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন, যাতে প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলেও, বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে কমিশন বাস্তবায়নের জন্য একটি চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
