যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামের ৬৪ জন চাষি বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। চলতি মৌসুমে তারা সাড়ে ৭ হেক্টর জমিতে চারা উৎপাদন করেছেন। এবার ৩৫ কোটি টাকার বেশি চারা বিক্রির আশা করছেন তারা।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামজুড়ে চলছে কপির চারা উৎপাদনের ব্যস্ততা। নারী-পুরুষ সকলে মিলে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত। মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধু কপির চারা — যেন সবুজে মোড়া এক সম্ভাবনার গ্রাম।এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখন আব্দুলপুর গ্রামটি ‘কপি পল্লী’ নামেই পরিচিত। চারা উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে চাষির সংখ্যা। জমির মালিক না হয়েও অনেকে লিজ নিয়ে শুরু করছেন এই আবাদ।চাষিরা জানান, এক বেডে চারা উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় এক হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি হয় আড়াই হাজার টাকারও বেশি। ফলে প্রতি মৌসুমে লাখ টাকার লাভ হয় অনেক চাষির।আব্দুলপুর গ্রামের আজিজুর রহমান জানান, তিনি ১০ বছর ধরে কপির চারা উৎপাদন করছেন। এবার ১২ কাটা জমিতে ৮০টি বেডে বাঁধাকপির চারা আবাদ করেছেন। গত মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার চারা বিক্রি করলেও এবার আশা করছেন ৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।পোলতাডাঙ্গা গ্রামের ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কপির চারা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখানকার চারার মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন। দামও ভালো পাওয়া যায়।’চাষি ওসমান গনি জানান, ‘প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার চাষিরা এখানে এসে চারা কিনে নিয়ে যান। আমি নিজে এখন সম্পূর্ণভাবে কপির চারা বিক্রির আয় দিয়ে সংসার চালাই।’চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বলেন, ‘চাষিরা প্রতি মৌসুমে এক জমিতে ৫ ধাপে চারা উৎপাদন করেন। এবার ইতোমধ্যে তিন ধাপের চারা বিক্রি শেষ। আরও দুটি ধাপে উৎপাদন চলবে।’তিনি আরও জানান, এখন বাজারে ফুলকপির চারা ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা এবং বাঁধাকপির (গ্রিন-৬০) চারা ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।চারা উৎপাদনে উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের সঠিক পদ্ধতি মেনে কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। মাটি, বালু ও জৈবসার দিয়ে বীজতলা প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, পানি ও আলো-বাতাসের ব্যবস্থা—সবকিছুতেই দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামজুড়ে কপির চারা উৎপাদন চলছে। এখানকার ৬৪ জন কৃষক ৭.৫ হেক্টর জমিতে চারা উৎপাদন করেছেন। তাদের উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে।’যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ‘এলাকার চারা উৎপাদন কার্যক্রম নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। উন্নতমানের চারা উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চাষিরা এখন কপির চারা উৎপাদনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে এলাকাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
