দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় মিনিবাস থেকে মাসে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘নতুন ব্রিজ-পটিয়া মিনিবাস সার্ভিস’ নামে পরিচিত পরিবহন লাইনের প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ৮০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। দৈনিক গড়ে শতাধিক মিনিবাস এ রুটে চলাচল করে।শান্তিরহাট ফুটওভারব্রিজের নিচে প্রতিদিন কয়েকজন যুবককে টাকা আদায় করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তারা প্রতিটি মিনিবাস চালকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অর্থ সংগ্রহ করেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন স্থান ত্যাগ করলেও একজন যুবক জানান, ‘যানজট এড়ানোর জন্য আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছি।’ওই যুবকরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন পটিয়া-আনোয়ারা-চন্দনাইশ অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাছির বলেন, ‘মিনিবাস থেকে যে টাকা আদায় হয়, তা দিয়েও লাইনম্যানদের খরচ মেটানো যায় না।’ মিনিবাস নিয়ন্ত্রণে অটো-টেম্পো ইউনিয়নের বৈধ কোনো এখতিয়ার রয়েছে কিনা–এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।কয়েকজন চালক জানান, প্রতিদিন ৮০ টাকা করে দিতে হয়। টাকা না দিলে তাদের গাড়ি স্ট্যান্ডে ঢুকতে দেওয়া হয় না, মারধর বা ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয়। তাদের দাবি, বাধ্য হয়ে প্রতিদিনই টাকা দিতে হচ্ছে।চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ হোসাইনী সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০–এর ধারা ৩৮৫ ও ৩৮৬ অনুযায়ী ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং জোরপূর্বক চাঁদাবাজি দণ্ডনীয় অপরাধ। একইসঙ্গে ধারা ৫০৬ অনুযায়ী হুমকি প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় করাও অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।এ বিষয়ে জানতে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
