বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একীভূতকরণসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে বিদ্যুৎ সেবায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারি থাকলেও, লোহাগাড়া জোনাল অফিসে ১০৭ জনের মধ্যে ৯৩ জন এখনো পর্যন্ত গণছুটিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম খান।সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় লোহাগাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৩-৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা অফিসে না এসে বাইরে ঘোরাফেরা করছিলেন। অফিসে গিয়ে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক গ্রাহক।জরুরি সেবা নিতে আসা স্থানীয় মো. হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘আমি এসেছিলাম বিদ্যুৎ সেবা নিতে, কিন্তু এসে দেখি অফিস ফাঁকা। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাউকে পাইনি। বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি। আমার মতো অনেকেই এভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন।’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, ‘আমাদের চার দফা ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করছি।’কর্মবিরতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ, মেরামত ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এ কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটির আবেদন দিয়ে চলে গেছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রভাব না পড়লেও, অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সেবা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। যাঁরা আছেন, তাঁদের ডিউটি বেশি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।’ এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
