চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় হাতির আক্রমণ ঠেকাতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছিল ধানক্ষেত রক্ষার্থে। তবে সেই ফাঁদেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জাহেদ খান (১৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আমির খান (২০) ও মেহেরুন্নেসা বাহান্নী (৩৫)।সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের খান বাড়ি এলাকার এক্কুদ্দা পাহাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহেদ খান ওই এলাকার আব্দুল হাফেজের ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাহেদ ছিলেন সবচেয়ে ছোট এবং পরিবারের কৃষিকাজে সহায়তা করতেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাতির উপদ্রব থেকে ক্ষেত রক্ষায় এলাকাবাসী রাতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ দিয়ে থাকে। দিনের বেলা সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নিয়ম থাকলেও কী কারণে সোমবার তা বিচ্ছিন্ন ছিল না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।নিহতের খালাতো ভাই মো. শাকিল জানান, ‘প্রতিদিনের মতো জাহেদ গরু আনতে বিলে গিয়েছিল। এ সময় সে বিদ্যুতায়িত ফাঁদে আটকে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমির খান ও মেহেরুন্নেসা আহত হন।’ আহতদের মধ্যে আমির খান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, তবে মেহেরুন্নেসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া বাড়ির সদস্য দিলুয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা এখানে থাকি না। আমাদের বাড়ি থেকে সংযোগ দেওয়া হলেও কে দিয়েছে জানি না। আমার স্বামী মো. ইসহাক জানেন।’অন্যদিকে, স্থানীয় জাফর মাস্টারের ছেলে মাসুদ বিন জাফর দাবি করেছেন, ‘সংযোগ দেয়া জমিটি আমাদের নয়, আমরা কোনো বৈদ্যুতিক ফাঁদ দিইনি।’এ বিষয়ে বাঁশখালী জলদি রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘হাতির আক্রমণ ঠেকাতে এ ধরনের বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এদিকে একইদিন বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ভরাচর গ্রামে, পাকা দেয়াল নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হানিফ (২০) নামের আরেক যুবক মারা গেছেন। তিনি আবু তাহেরের ছেলে এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট।নিহতের মামা জসিম সাওদাগর জানান, ‘রাজমিস্ত্রির কাজ করতো হানিফ। প্রতিদিনের মতো স্থানীয় এক বাড়িতে দেয়াল নির্মাণের সময় লোহার পিঞ্জিরা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে সে আহত হয়। পরে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’এ বিষয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুনতাছির জাহেদ বলেন, ‘দুই ঘটনাতেই হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।’আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘বৈরাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। বরুমচড়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
