জীবননগরে ফসলের মাঠে আউশ ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এবার আউশ ধানের ফলনে অসন্তুষ্ট চাষিরা। এছাড়া ধানের বাজারমূল্যও কিছুটা কম।চাষিরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ধানক্ষেতে দীর্ঘসময় পানি বেঁধে থাকার কারণে ধানের স্বাভাবিক বংশবিস্তার হয়নি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে অনেক ধান চিটা হয়ে গেছে, যার কারণে ফলন কম হয়েছে।প্রতি বিঘা জমিতে ১৮-২০ মণ ধান হওয়ার কথা, কিন্তু সেখানে ধান হচ্ছে ১৫-১৬ মণ। নিচু এলাকায় ধানের ফলন আরও কম হয়েছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় পানির নিচে কৃষকেরা ধান ঘরে তুলতে পারেননি।তাছাড়া বর্তমান ধানের বাজারমূল্য তুলনামূলক কম। এই দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ উঠবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আউশ ধান ১১৫০ টাকা থেকে ১১৮০ টাকা দরে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে। পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানগুলো আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে।জীবননগর উপজেলার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আউশ ধান মাড়ায়ে নবান্ন উৎসবে মেতেছে চাষিরা। উঁচু জমিগুলোতে কম্বাইন্ড হারভেস্টারের সাহায্যে ধান কাটা হচ্ছে। নিচু জমিতে ও হেলে পড়া ধানগুলো শ্রমিকদের দিয়ে কাটা হচ্ছে।জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের ধান চাষী হাসান আহম্মেদ বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছিলাম। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ধানের ফলন তেমন ভালো হয়নি।’কম্বাইন্ড হারভেস্টারের সাহায্যে ধান মাড়ায় করলে খরচ কিছুটা সাশ্রয় হতো। ধানক্ষেতে পানি বেশি ও কিছু ধান গাছ হেলে পড়ার কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টারের সাহায্যে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের দিয়ে ধান মাড়ায় করেছি। এতে কম্বাইন্ড হারভেস্টারের ছাড়া দ্বিগুণ খরচ বেশি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ধান চাষে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শুকিয়ে আনুমানিক ১২ মণ ধান হতে পারে। এখন বাজারে ধান বিক্রি করলে আমার ৫ হাজার টাকা লোকসান হবে।’আরেক চাষি সাজিমদ্দী জানিয়েছেন, ‘এবছরে সবারই আউশ ধানের ফলন কম হয়েছে। ধানের বিচালি করতে পারলে খরচ কিছুটা পুষিয়ে যেত। কিন্তু পানির জন্য সেটাও সম্ভব হয়নি। ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।’জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ‘জীবননগর উপজেলার এবার মোট ৬ হাজার ৫শ’ ১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৯০ শতাংশ জমিতে ধান কাটা হয়ে গেছে। এবছর অতি বৃষ্টিতে ধান গাছের ক্ষতি হয়েছে, যার কারণে ফলন বিঘাপ্রতি ২ মন করে কম হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের বাজার মূল্য ঠিক আছে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
