কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের গলিপথ আর টিনশেড ঘরে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেজে ওঠে সুঁই-সুতোয় টানাটানির শব্দ। ছেঁড়াফাটা বস্তায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করছেন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ।তাদের জীবন চলে এই বস্তা সেলাইয়ের আয়েই। সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের খরচ—সবকিছুর ভরসা এই কাজ। প্রায় তিন হাজার মানুষের এমন ব্যস্ততায় বদলে যাচ্ছে ভৈরবের চেহারা।দেশের বিভিন্ন মেইল কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ছেঁড়া বস্তা জমা হয় পৌরসভার কালিপুর, চন্ডিবের, পলতাকান্দা, বাগানবাড়ি ও মালগুদাম এলাকায়। ব্যবসায়ীরা গুদাম ভরে রাখেন হাজার হাজার বস্তা। আর শ্রমিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে সুঁই-সুতোয় গেঁথে সেগুলোর নতুন আকার দেন।শ্রমিকরা বলেন, ‘প্রতিটি বস্তা সেলাই করতে সময় লাগে দশ থেকে পনেরো মিনিট। মজুরি তিন থেকে চার টাকা। দিনে একজন শ্রমিক আয় করেন পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা পর্যন্ত।’ ভৈরবের প্রায় এক হাজার ব্যবসায়ী এই কাজের সাথে জড়িত। তাদের হাতে কর্মসংস্থান পেয়েছেন দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিক। বস্তা মেরামতের পর বান্ডেল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টাচ্ছে বাজার। প্লাস্টিকের বস্তার ব্যবহার বাড়ায় পাটের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। অসংখ্য মানুষের জীবিকা রক্ষায় তাই ব্যবসায়ীদের দাবি—সহজ শর্তে সরকারি ঋণের মাধ্যমে শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা হোক।’হাজারো হাতের পরিশ্রমে টিকে আছে ভৈরবের এই বস্তা শিল্প। কিন্তু বাজারের পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের সামনে, এই শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
