ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচন। আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল,আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ফারুক হোসেন। তবে এর মধ্যে বুলবুল দাবি করেছেন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর বিসিবির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বুলবুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তার জন্য একজন সরকারি অস্ত্রধারী (গানম্যান) নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়। যদিও চিঠিতে সরাসরি হুমকির প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়নি।তবে একাধিক গণমাধ্যমে বুলবুল নিজেই জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে অজানা নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়, ‘ইলেকশন না করলে হয় না? না করলেই ভালো হয়।’ এ কথায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেন।কিছুদিন আগেও বিসিবির নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে তাঁকে সরিয়ে বোর্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিসিবিতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। এর মধ্যেই তামিম ইকবালের নির্বাচনে আসার ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সদ্য বিদায় নেওয়া এই তারকা সরাসরি সভাপতির পদে না আসলেও পরিচালকের পদে নির্বাচন করবেন বলে জানান। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ভবিষ্যতে সভাপতির দায়িত্ব পালনের ইচ্ছার কথাও বলেছেন।যদিও বিসিবির নির্বাচন সরাসরি রাজনৈতিক নির্বাচন নয়, তবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে রাজনীতির যে অদৃশ্য যোগ, সেটি নতুন নয়। হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চাওয়া, প্রতিপক্ষের তৎপরতা—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে একটি ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিসিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘বুলবুল নতুন হলেও এখন অনেক বড় বড় স্বার্থ এখানে জড়িত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গেলে চাপে পড়বেন, এটা আগেই জানা।’বিসিবির আগামী সভাপতি কে হবেন, সেটি এখনই বলা না গেলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম ও অবস্থান ইতোমধ্যে নির্বাচনের আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সাবেক ও বর্তমান তিন ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের লড়াই যেন মাঠের বাইরের আরেক ম্যাচে রূপ নিয়েছে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
