কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে টাকার বিনিময়ে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতারা জামিন পাচ্ছেন। এমনকি পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী মকবুল হোসেনকে জামিন করাতে ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি কামাল উদ্দিন।বুধবার (০৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের ঈদগাহ মাঠে উপজেলা বিএনপির একাংশ আয়োজিত দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।ভিপি কামাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘যে আব্দুল কাহহার আকন্দ আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলায় মিথ্যা চার্জশিট দিয়ে ফাঁসিয়েছে, তাকেই বারবার অনুষ্ঠান করে প্রধান অতিথি করেছেন জালাল উদ্দিন। এমনকি বক্তব্যে বলেছেন, আব্দুল কাহহার আকন্দ আলোচিত কয়েকটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। প্রশ্ন হলো, যিনি আমাদের নেতাকে ফাঁসালেন, তাকে কিভাবে বিএনপির আহ্বায়ক হয়ে মঞ্চে প্রধান অতিথির আসনে বসিয়ে দেয়? তিনি তো কোনো এমপি ছিলেন না যে তাকে স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করতে হবে। এসব ব্যাপারে জালাল উদ্দিনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।’তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় জালাল উদ্দিনের কোনো ভূমিকা ছিল না। কিছুদিন আগে তিনি মির্জা আব্বাস সাহেবের কাছে বলেন, পাকুন্দিয়ার এসিল্যান্ডকে সরাতে হবে। সে ফ্যাসিবাদের দোসর। অথচ যেদিন এসিল্যান্ডের মাথা ফেটে যায়, তখন তিনি পুলিশকে বলেছেন কামাল তার লোকজন দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মির্জা আব্বাস সাহেবের সাথে কথা বলার এক সপ্তাহ আগেই ওই এসিল্যান্ড পাকুন্দিয়া থেকে চলে গিয়েছিলেন।’ভিপি কামাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘এখন তিনি আবার বলছেন, ইউএনও সাহেব নাকি ফ্যাসিবাদের দোসর। শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে পালানোর এক বছর পর এসে কেন এসব কথা বলা হচ্ছে? গত এক বছরে তো এমন কোনো কথা বলেননি। আসলে এখন স্বার্থের টান পড়েছে, তাই ইউএনওকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।’অনুষ্ঠানে পাকুন্দিয়ায় উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কদ্দুছ মোমেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল করিম বজলু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বজলুল করিম বাবুল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক জর্জ ও উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতার জামিন করাচ্ছেন এমন অভিযোগ সম্পর্কে অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘যারা জামিনে বেড় হয়েছে তারা সবাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মকবুলও হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে। মিথ্যা কথা বলে অভিযোগ করলেই তো হবে না।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
