ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনা ধুঁকছে। রয়েছে কার্গো গুদামের সংকট, দক্ষ জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব। সরকারি জটিল নিয়ম-নীতিও পণ্য খালাসে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিদিন আকাশপথে যে পরিমাণ পণ্য আসে, তার অর্ধেক রাখার জায়গাও নেই শাহজালালের কার্গো গুদামে। ফলে গুদামের বাইরে বে-এরিাসহ খোলা আকাশের নিচে ছড়িয়ে রাখা হচ্ছে মালামাল। এতে কোনো পণ্যের আগমন তারিখ ও সিরিয়াল ঠিক থাকছে না। অনেক সময় দিনের পর দিন পণ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সময়মতো ডেলিভারির ওপর টিকে আছে। অথচ শাহজালালে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের অব্যবস্থাপনা এ খাতকে হুমকির মুখে ফেলছে। পর্যাপ্ত টার্মিনাল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল না থাকায় রপ্তানিকারকরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন না। এতে দেশের ভাবমূর্তি ও আয় দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো গুদামের আয়তন মাত্র ১৭ হাজার বর্গফুট। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। অথচ প্রতিদিন দেড় শতাধিক ফ্লাইট ওঠানামা করে, যার মধ্যে প্রায় ৪শ টন আমদানি পণ্য থাকে। জায়গার সংকট ও যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে অনেক পণ্য খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে।এছাড়া ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম চালু করেছে। এতে সাতটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ সিস্টেমের মাধ্যমে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্য ছাড় করতে আরও ভোগান্তিতে পড়ছেন।বেবিচকের সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন, শাহজালালে কার্গো গুদামের সংকট দীর্ঘদিনের। তবে তৃতীয় টার্মিনালে আধুনিক গুদাম নির্মিত হয়েছে, যা ডিসেম্বরেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাফিকুর রহমান বলেন, ‘কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের কোনো গাফিলতি নেই। ফ্লাইট অবতরণের পরপরই পণ্য নামিয়ে যথাস্থানে রাখা হয়। কাস্টমসের নিয়ম-নীতির কারণেই বিলম্ব হয়।’ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কবির আহমেদ মনে করেন, ‘আকাশপথে আমদানি-রপ্তানির যে সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, শাহজালালে তা নেই। তবে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।’সাবেক বেবিচক চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, ‘ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় শাহজালালে চাপ বেড়েছে। এ কারণে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ইউরোপে কার্গো ফ্লাইট চালু হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারেও প্রস্তুতি চলছে। এতে শাহজালালের চাপ কমবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
