কুমিল্লায় রান্নাঘরে ঢুকে গৃহবধূ শানু বেগমকে (৫০) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রবিবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন কুমিল্লা সদর উপজেলার কালীর বাজার ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর ভোরে শানু বেগম তেলের পিঠা বানাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন রান্নাঘরে প্রবেশ করে। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বটি দিয়ে শানু বেগমের গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর দেলোয়ার পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে ফেলে এবং পুলিশে খবর দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শানু বেগমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পরদিন নিহতের স্বামী মোহাম্মদ ফরিদ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দেলোয়ারকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৯ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত রায় ঘোষণা করেন।রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আশা করি উচ্চ আদালতও এ রায় বহাল রাখবেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।’অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুদ সালাউদ্দিন জানান, ‘এ রায়ে তারা ক্ষুব্ধ এবং রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
