অন্ধ হয়েও কারো কাছে হাত না পেয়ে গরুর সাহায্যে চলাফেরা করছেন কাজেম আলী নামের এক ব্যক্তি। গরুকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে গোসল, লালন-পালন, সবকিছুই করেন নিজের হাতে। সুস্থ মানুষের যেখানে চলতে সমস্যা হয়, সেখানে তার এমন চলাফেরায় অবাক স্থানীয়রা। তাকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবা অফিস।দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খোকার ছেলে কাজেম আলী। ছোটবেলায় চোখে দেখতে পেলেও যুবক বয়সে হারান চোখের আলো। বহু চিকিৎসার পরেও তার চোখ ভালো হয়নি। বর্তমানে দুচোখে কিছুই দেখতে পান না, কিন্তু এতে দমে যাননি। নিজের মতো করে বেঁচে থাকার লড়াই করে যাচ্ছেন। কারো উপর নির্ভর না করে নিজেই নিজের জীবনের ভার তুলে নিয়েছেন। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন গরু লালন-পালন। সেই গরুই তার জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে; গরুর সঙ্গে গড়ে উঠেছে অদ্ভুত এক হৃদয়ের সম্পর্ক।অন্ধ কাজেম আলী বলেন, ‘গরুর মাধ্যমে করেন চলাফেরা। গরুকে মাঠে চড়ানো, গোসল করানো, খাওয়ানো সব করেন নিজের হাতে। চোখে দেখতে না পেলেও গরুই তাকে মাঠে নিয়ে যায়, আবার খাওয়া শেষে বাড়ি ফিরে নিয়ে আসে। গরু যেন বুঝতে পারে তার মন; সেই মত যেখানে যেতে চায়, সেখানে নিয়ে যান। যে গরু আসে, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে। মানুষের গরু আদি নিয়ে সেটি লালন-পালন করেন। বাচ্চা হলে একটি, তার পরেরটি গরু মালিকের; এভাবেই চলছে তার। এতে তার সংসার চলে না; কেউ যদি একটি গরু কিনে দিত, তাতে খুব উপকার হতো’ বলে দাবি তার।স্থানীয়রা বলেন, ‘চোখ থাকতেও আমরা অনেক সময় ভুল করি, কিন্তু তার গরুর সাহায্যে নির্ভুল চলাফেরায় অবাক স্থানীয়রা। অন্ধ হয়েও কারো কাছে হাত না পেতে কাজ করে খাওয়ায় সকলের সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত’ দাবি তাদের। অন্ধ কাজেম আলীর সহায়তায় সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন, এমনটিই দাবি স্থানীয়দের।নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই অন্ধ কাজেম আলীকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। সমাজসেবার অধীন অন্য যেসব সুবিধা রয়েছে, সেগুলো তাকে দেওয়া হবে।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
